স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা আছে বিএনপির: তারেক রহমান
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১২:৩৯ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার
তরুণদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বিদেশে পড়াশোনার সময় অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক সংকটে পড়েন। তাদের সহায়তায় স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা আছে বিএনপির। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা না করলে রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের আস্থা থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ -এ অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হল, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব। বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ। কিন্তু তাতে সমাধান আসবে না। অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশকে পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবেন তা শুনতে চাই।’
এরপর প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে তাসনুভা তাসরিন বলেন, আমি পড়াশুনা করছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষে। ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে তারা মাশুরমের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুঁজির সংকটে বেশিদিন চালাতে পারেননি।
জামানত দেওয়ার নিয়মের কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে জটিলতায় পড়েন, সে কথা তুলে ধরে তাসনুভা বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেবে।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে। পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কিনা সে ভাবনা আছে বলেও তারেক রহমান জানান।
এ সময় ভোকেশনাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কথা জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ৫-১০ বছরে বৈশ্বিকভাবে কোন কোন ভোকেশনাল কাজের চাহিদা বাড়বে, তা চিহ্নিত করে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে বিদেশে দক্ষ শ্রমশক্তি পাঠানো গেলে উন্নত মানের কর্মী রপ্তানি সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে স্কুলগুলোকে অডিও-ভিজ্যুয়াল সংযোগের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সেরা শিক্ষকদের পাঠদান নিশ্চিত করা যাবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক ডিভাইস সরবরাহের কথাও বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এরপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান জলাবদ্ধতা সংকট, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমমিটার খাল আমরা খনন করব।’
এছাড়া স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, শুধু হাসপাতাল নির্মাণ টেকসই সমাধান নয়। হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।
চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে।
দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। এ উপলক্ষে ভোর থেকেই পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। চট্টগ্রাম জেলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে।
চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোনাগাজী, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত মাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
এএইচ
