ভারতে হাসিনার বক্তব্যের অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদ বাংলাদেশের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৬:১৪ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ রবিবার
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের দিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক। ওই বক্তব্যে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করতে তার দলের অনুগত ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেন।
বাংলাদেশ গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, ভারত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে বরং তাকে ভারতের নিজস্ব মাটি থেকে এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তোলে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে ঘৃণ্য বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালার পরিপন্থী। এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই নির্লজ্জ উস্কানি আবারও প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে।
একই সঙ্গে এই দুষ্ট ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে বাংলাদেশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এমআর//
