আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস আজ
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৪১ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার
আজ ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস। ২০২৬ সালে ডব্লিউসিও কর্তৃক নির্ধারিত কাস্টমস দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘কাস্টমস প্রটেক্টিং সোসাইটি থ্রু ভিজিলেন্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট’। অন্যান্য সদস্য দেশের মতো বাংলাদেশ কাস্টমস এ প্রতিপাদ্যের গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ কেন্দ্রীয়ভাবে সেমিনার ও দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউজ ও কাস্টমস স্টেশনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
কাস্টমসের বহুমুখী ভূমিকা ও তার গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতি বছর ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশ্বব্যাপী তার তাৎপর্য তুলে ধরে।
পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রকৃতি ও ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পালটে যাচ্ছে দেশের বর্ডার এজেন্সির কাজের কৌশল ও গুরুত্ব। রাজস্ব আহরণ যেখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হতো, সেখানে বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধসহ নানাবিধ জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের মতো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
ডব্লিউসিও ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য-'অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস'কে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উদ্যাপন হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবা গ্রহীতা ও অংশীজনদের অভিনন্দন জানান।
বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিংগেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য ব্যবস্থা সহজীকরণে বন্ড অটোমেশন সিস্টেম চালুসহ কাস্টমস কার্যক্রম আধুনিকায়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বচ্ছ, দক্ষ, জবাবদিহিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কাস্টমস প্রশাসন অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালান, মাদক ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে।
বাংলাদেশ কাস্টমস দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মোট আদায়ের ২৭% কাস্টমস হতে আদায় করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক-কর যৌক্তিকীকরণ, দেশীয় শিল্পকে রেয়াতি সুবিধা ও ট্যারিফ সুরক্ষা প্রদান, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধায় রপ্তানি সহজীকরণ, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণ ও মেধাস্বত্ব বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সহজীকরণ করা হয়েছে।
ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কাস্টমস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানি দ্রুততর করছে। কার্যকর ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে পণ্যচালান খালাস সহজ ও পেপারলেস হয়েছে। টাইম রিলিজ স্টাডিজ অনুসারে ৯০% পণ্য এক দিনের মধ্যে শুল্কায়ন হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত ঝুঁকিমুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করছে।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা, চোরাচালানকারীসহ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসে জড়িতদের নিত্যনতুন কলাকৌশল, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। উচ্চ পেশাদারিত্ব, বিশেষায়িত জ্ঞান, দেশি-বিদেশি অংশীজনদের সাথে সহযোগিতা বজায় রাখাসহ যুগোপযোগী কর্মকৌশলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কাস্টমস এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সারা বিশ্বে আর্থ-সামাজিক সুরক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করছে।
এএইচ
