ঢাকা, সোমবার   ২৬ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ১৩ ১৪৩২

ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের ওপর হাত দেব না: জামায়াত আমির

মেহেরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৫:৪৭ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সোমবার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর কসম, জনগণের সম্পদের ওপর হাত দেওয়া হবে না। ন্যায়ের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্পদ বাড়বে না, সম্পদ বাড়বে জনগণের।”

তিনি আরও বলেন, “পাঁচ বছর পর নয়, প্রতি বছর মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান-মেম্বার পর্যন্ত সবাইকে জনগণের কাছে হিসাব দিতে বাধ্য করা হবে। আমরা নিজেরা দুর্নীতি করব না, কাউকেও করতে দেব না।”

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

দেশ থেকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি উৎখাতের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের ভালো হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু দেখা গেছে, তারা তা হয়নি। বরং হঠাৎ করে কিছু লোক আবার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে। সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ছেড়ে হকের পথে আসতে হবে। তাদের হাতে আমরা কাজ তুলে দেব।”

নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নারীদের ইজ্জত রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ৬০ থেকে ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হবে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা নিজেদের টাকায় চিকিৎসা করবেন—এতে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।”

তিনি আরও বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বেকারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা হবে।” এ সময় তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন এবং একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

মেহেরপুর জেলা জামায়াতের আমির ও মেহেরপুর-১ আসনের জামায়াত-জোট প্রার্থী মো. তাজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. নাজমুল হুদাসহ ১১-দলীয় জোটের জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আমিরে জামায়াতের জনসভাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। কানায় কানায় ভরে ওঠে জনসভা মাঠ।

এর আগে হেলিকপ্টারযোগে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান জামায়াত আমির। সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে তিনি চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা দেন।

এমআর//