রাজশাহীতে পুলিশ হেনস্থা ও তিনজন নিহতের ঘটনায় বাসচালকসহ গ্রেপ্তার ২
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৩:৪৭ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:৪৯ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
রাজশাহীতে বাসচাপায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজকীয় পরিবহনের বাসচালক সাইফুল ইসলামকে (৪৮) ও পুলিশ হেনস্থার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
জানানো হয়েছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে বাসচালককে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি নাটোর সদরের কানাইখালী দক্ষিণ পটুয়াপাড়ায়। এছাড়া এ দুর্ঘটনার পর পুলিশকে হেনস্থার অভিযোগে হাসানুর রহমান ওরফে তুহিন (২৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি রাজশাহী শহরের শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম চকপাড়ায়।
বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলায় বাসচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের হেনস্থার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তুহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রাজশাহীর বেলপুকুর থানার পল্লাপুকুর এলাকায় রাজকীয় পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। গুরুতর আহত ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও দুইজন মারা যান।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেলপুকুর থানার ওসিসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযোগ তোলে, পুলিশ ঘাতক বাসচালককে পালাতে সহায়তা করেছে। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক পুলিশ উপপরিদর্শককে (এসআই) কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় এবং ওসিকেও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
প্রায় এক ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বাসচালক বাসটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর পর একটি গুজব ছড়ানো হয় যে, পুলিশ বাসচালককে ছেড়ে দিয়েছে- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। এই গুজবের জেরে উত্তেজিত জনতা নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে বাধা দেয় এবং ওসি ও এক এসআইকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে হেনস্থা করে। এমনকি এসআইকে কান ধরতে বাধ্য করে তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তুহিনই ওই ‘মবের’ মূল হোতা। এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি এবং সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যদের হেনস্থার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তুহিন ও সাইফুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এএইচ
