ঢাকা, বুধবার   ২৮ জানুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ১৫ ১৪৩২

শ্রমিক নেতা বাসু হত্যা: ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, চার আসামির আমৃত্যু কার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০২:৫৭ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

গোপালগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান বাসু হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে চার আসামির আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্তকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর আব্দুর রশীদ মোল্লা এ তথ্য জানান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, কিবরিয়া আল কাজী এবং ঝন্টু শেখ।

মামলার অপর চার আসামি মিন্টু শেখ, কেনাই মোল্লা, আলিমুজ্জামান বিটু (পলাতক) ও প্রিন্স খাঁকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত আসামিদের সাজা পরোয়ানামূলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এ ছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জন হলেন— ইকবাল খাঁ, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আকরাম আলী, হাবিল কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ এবং শওকত শেখ।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা এলাকায় জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে সাইদুর রহমান বাসুকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একই বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর থানায় বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ মামলা করেন। 

২০১৬ সালের ১২ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক হযরত আলী ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

২০১৭ সালের ২৯ আগস্ট গোপালগঞ্জ দায়রা জজ মো. দলিল উদ্দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ পাঠানো হয়। এ ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, দণ্ডপ্রাপ্তরা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন-২০০২ এর ধারা ১৪ অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করতে পারবেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর। রায় ঘোষণার পর নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এএইচ