ভেজাল পণ্যে হুমকির মুখে জনস্বাস্থ্য, বিউটি পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর দাবি
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:৪০ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৮:৪১ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার
আগ্রাসনে রূপ নিয়েছে ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস, হোমকেয়ার ও স্কিনকেয়ার পণ্য। এ ভয়াবহতা দিন দিন শুধু বাড়ছেই। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে নিরাপদ ও মানসম্মত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত এবং সঠিক নীতিমালা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। কারণ জনসম্পৃক্ত এসব বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে চরম হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্য।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি), রাজধানীর কারওয়ান বাজারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি)-এর সম্মেলন কক্ষে ‘ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন: ভোক্তার সুরক্ষায় প্রয়োজন কঠোর নীতিমালা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
ডিএনসিআরপি ও অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)র যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম।
সেমিনারের প্রধান অতিথি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের আগ্রাসন রোধে ব্যর্থ হলে আগামী প্রজন্ম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তিনি হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারের বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, এই বাজারে প্রবেশে দেশের কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের রয়েছে অপরিসীম সুযোগ। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মূল প্রবন্ধে ড. আইনুল ইসলাম বলেন, দেশে কসমেটিকস খাত অনেক উপেক্ষিত। অথচ কসমেটিকস কেবল সাজসজ্জা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক কল্যাণ এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে জড়িত। ভেজাল ও নিম্নমানের আমদানিকৃত পণ্যের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, এ অবস্থা দেশিয় শিল্পের বিকাশকে রূদ্ধ করছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভেজাল পণ্য আসল পণ্যের চেয়ে সস্তায় মিললে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা কার্যকর না থাকলে, খারাপ পণ্য ভালো পণ্যকে বাজার থেকে বিতাড়িত করে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ইসহাকুল হোসেন সুইট ব্যবসা সহজীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কসমেটিকস শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে আরোপিত ১২৭.৭২ শতাংশ শুল্ক দেশীয় শিল্পের বিকাশে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এই উচ্চ শুল্কহার উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। দেশীয় শিল্পকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে কাঁচামাল আমদানিতে এই শুল্ক কমিয়ে নামমাত্র পর্যায়ে আনার দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ কসমেটিকস অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সাহিদ হোসেন বলেন, ভেজাল পণ্যের বিস্তার রোধ ও দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাঁচামাল আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক অবশ্যই কমাতে হবে। তাঁর মতে, কাঁচামালে শুল্ক কমানো হলে শিল্প-উদ্যোক্তারা আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন, যা শিল্পের টেকসই বিকাশে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশীয় উৎপাদকদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ করে আমদানিকৃত কসমেটিকস ও বিউটি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শারমিনা হক ভেজাল ও নিম্নমানের কসমেটিকস পণ্য ব্যবহারের ভয়াবহ দিক তুলে ধরে বলেন, এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে কেউ কেউ চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই ঝুঁকি এড়াতে ভোক্তাদেরই সবার আগে সচেতন হতে হবে এবং ব্যবহৃত কসমেটিকস পণ্যটি নিরাপদ ও মানসম্মত কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ভেজাল ও ক্ষতিকর পণ্যের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তদারকি ও নজরদারি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও সেমিনারে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)-এর সহসভাপতি এম এস সিদ্দিকী, এসএমই ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আলী জামান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আজিজুল ইসলাম, উপ-পরিচালক আতিয়া সুলতান, বিএসটিআই-এর উপ-পরিচালক আলাউদ্দিন হুসাইন ও সিনিয়র সাংবাদিক মনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন।
এএইচ
এএইচ
