ফরিদপুরে বিএনপিকে জড়িয়ে প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর অভিযোগ
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৩২ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ফরিদপুরে মাটি খেকোদের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে মাটি কাটার একটি ভেকু আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের দাবি, অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত না থাকলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির ছেলে জড়িত নন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাটে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম।
জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কাচারিরটেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে ভেকু বসিয়ে মাটি কাটছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এর প্রতিবাদে গত ২৬ জানুয়ারি রাতে মাটি কাটার সময় একটি ভেকুতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় একটি পক্ষ বিএনপি নেতা মির্জা সাইফুল ইসলাম আজমের বড় ছেলে মির্জা ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। পাশাপাশি ফরিদপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়। এ ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বিএনপি সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষের লোকজন বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি আমার ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় একটি চক্র অবৈধভাবে মাটি ও বালু কাটছে—বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) অবহিত করেছি এবং ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। ঘটনার রাতে আমার বড় ছেলে মাটি কাটা বন্ধ করতে ঘটনাস্থলে যায়। তখন প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে দেখে গুজব ছড়ায় যে সে ভেকু দিয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নেত্রী চৌধুরী নায়াব ইউসুফের নির্বাচনী মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে জামায়াত ও আওয়ামী লীগের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাঁর নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি যদি অপরাধী হতাম, তাহলে প্রশাসনকে বিষয়টি জানাতে যেতাম কেন? রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এই প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। আমার ছেলে যদি বিন্দুমাত্র জড়িত থাকে, প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তাই প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাই।
এ সময় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর//
