মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৭:২০ পিএম, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্ত এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের তারাদরম এলাকায় বিয়ানীবাজার ৫২-বিজিবির সদস্যরা এই সফল অভিযান পরিচালনা করেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান ৫২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান।
তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা খবর পান, মঙ্গলবার ভোর রাতে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার নিউ পাল্লাথল বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৩৭৫/এম-এর নিকট দিয়ে কয়েকজন দুষ্কৃতিকারী উচ্চ বিস্ফোরক ও অস্ত্রসহ অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান, এসইউপির নেতৃত্বে একটি টহল দল এবং বড়লেখা উপজেলার নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প (ছোটলেখা উচ্চ বিদ্যালয়) হতে মেজর এম. জাহিদসহ আরও একটি টহল দল নিয়ে সমন্বিতভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান চলাকালে দূর থেকে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতিকারীরা রাতের অন্ধকারে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। বিজিবির উপস্থিতি বুঝতে পেরে দুষ্কৃতিকারীরা মালামাল ফেলে সীমান্তবর্তী গভীর জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তারাদরম এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উল্লিখিত বিস্ফোরক ও অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক ও অস্ত্রের মধ্যে ছিল—পাওয়ারজেল নাইনটি উচ্চ বিস্ফোরক ২৪টি টিউব (ভারতের এসবিএল এনার্জি লিমিটেড, নাগপুরে প্রস্তুত), ২৩টি ডিটোনেটর, ১৫ মিটার ডিটোনেটর কর্ড এবং ৩টি পাইপ গান।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আতাউর রহমান আরও জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের উচ্চ বিস্ফোরক ও অস্ত্রের অনুপ্রবেশ দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম চলমান আছে।
এমআর//
