কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: তারেক রহমান
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৪৯ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ০৭:৩১ পিএম, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার
ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিশাল জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের স্বাধীনতা, কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জনগণের পক্ষ থেকে তাদের একটি নাম দেয়া হয়েছে গুপ্ত। জনগণ তাদের গুপ্ত নামেই চেনে। এরা রূপের পরিবর্তন করে।
বুধবার দুপুরে আয়োজিত এই সমাবেশে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে; সকাল থেকেই জেলা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে আসা নেতাকর্মীদের ঢলে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
ভোটারদের বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নানা মাধ্যমে সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে মা-বোনদের কাছ থেকে বিকাশ নম্বর নিচ্ছে তারা। যেখানে নিজেরাই অনৈতিক কাজ দিয়ে শুরু করছেন, সেখানে জনগণ কীভাবে আশ্বস্ত হবে আপনারা সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন।
ফরিদপুরবাসীদের প্রতি তিনি বলেন, ধানের শীষে রায় পেলে আপনারা যে দাবি জানিয়েছেন সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ শুরু করতে পারবে বিএনপি। বিএনপি আগামী ১২ ফ্রেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হলে যদি বিভাগ করলে স্থানীয় জনগণের উপকার হয় তাহলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে।
তারেক রহমান তাঁর ভাষণে দেশের উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
ফরিদপুর বিভাগ গঠন
তিনি ঘোষণা করেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গতিশীলতার স্বার্থে ফরিদপুরকে পূর্ণাঙ্গ বিভাগে রূপান্তর করা হবে।
নদীভাঙন রোধ
এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অভিশাপ পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীগুলোর ভাঙন রোধে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড
কৃষকদের সহজ শর্তে বীজ, সার ও কীটনাশক নিশ্চিত করতে 'কৃষক কার্ড' এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে 'ফ্যামিলি কার্ড' চালুর ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যসেবা
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি ঘরে হেলথকেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান।
অবকাঠামো ও পানি
পানির সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস প্রদান করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও হুঁশিয়ারি
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন আর ২০২৪-এ ছাত্র-জনতা সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একটি গুপ্ত দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। তাদের ইতিহাস কলঙ্কজনক, যা ১৯৭১ সালেও প্রমাণিত হয়েছিল।”
তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সুশাসন নিশ্চিত হলে এই অঞ্চলই হবে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তিনি তরুণদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এবং আগামীর বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দাবি করেন, ফরিদপুরের এই অভূতপূর্ব জনসমাগমই প্রমাণ করে যে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের মধ্য দিয়ে সভাটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সময় পর এমন বড় সমাবেশে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।
জনসভায় ফরিদপুর বিভাগীয় ৫টি জেলার নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ
