ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২৩ ১৪৩২

নবাবগঞ্জে যুবককে মারধরের ঘটনায় উত্তপ্ত রাজনৈতিক মাঠ

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:২৩ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১১:০৬ এএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ঢাকার নবাবগঞ্জে আমির হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের উপর হামলার ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ হয়েছে। এ ঘটনার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দোহার ও নবাবগঞ্জের রাজনৈতিক মাঠ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বামুয়াহাটি সিদ্ধাবাড়ির মেলায় আমিরের উপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত আমিরকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। 

আহত আামির হোসেন জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের হান্নান খান ঝুলু’র ছেলে। 

আহত আমিরকে জামায়াত কর্মী দাবি করে ফুঁসে উঠে দলটির নেতাকর্মীরা। হামলার পুরো অভিযোগ দেয়া হয় বিএনপির ঘাড়ে। আর ঘাড় থেকে সে বোঝা নামাতে ঘটনার আদ্যোপান্ত খুঁজতে থাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

আমিরকে দলীয় কর্মী দাবি করে রাতেই উপজেলা সরকারি হাসপাতালে তাকে দেখতে যান ঢাকা-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। তাৎক্ষনিক দলের পক্ষ বের করা হয় বিক্ষোভ মিছিল। জামায়াতের দাবি, গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচারণা চালানো আমিরের উপর জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বর্বাচিত হামলা করা হয়েছে। 

হামলার প্রতিবাদ ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার সকালেও বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াত নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় কৃষক দল নেতা কামাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলাও করেন আহত আমিরের স্ত্রী।

তবে এ ঘটনায় বুধবার আহত আমিরের বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে থানার মামলা করে ওই কিশোরীর মা। ওই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে ওই কিশোরী সিদ্ধাবাড়ির মেলায় গিয়ে নৌকা রাইড শেয়ারে উঠে। এসময় আমির পিছনের সিটে বসে কিশোরীর স্পর্শকাতর স্থানের স্পর্শ করেন। এঘটনার জেরে কিশোরীর মামা ও বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনী দেয়।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে বামুয়াহাটি সিদ্ধাবাড়ি মেলায় সরজমিনে গেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যার ঘটনার আদ্যপ্রাপ্ত জানা যায়। স্থানীয় ও দোকানদারদার জানান, একটি মেয়েকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে এক যুবককে মারধর করা হয়েছে ব্যাপারটা সকলে অবগত।

আহত আমিনের বাবা হান্নান খান বলেন, কি নিয়ে ঝামেলা আমি জানি না। বেশ কয়েকজন পুলাপান আমিরকে মারতে মারতে আমার দোকানে নিয়ে আসে। একটু পর কামাল এসে আমার ছেলেকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে। তিনি আরো বলেন, আমরা কোন রাজনীতি করি না। আমার ছেলেও রাজনীতি করে না। আজ হুনতাছি ও নাকি জামায়াত করে। আবার হুনলাম কামালের নামেও নাকি মামলা করেছে।

নৌকা রাইড শেয়ারের মালিক ওয়াসিম জানান, যাকে নিয়ে ঘটনা ওরা আমাদের রাইড শেয়ারে ছিল। রাইড শেষ হওয়ার পর জানতে পারি, ছেলেটা মেয়েটা শরীরে টাচ করছে। এনিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায় ছেলেটাকে বেশ কয়েকজন মিলে মারধর করে।

স্থানীয় মো. বাছের বলেন, এ মেলাটা আমরাই আয়োজন করি। গত বছরও এক মেয়েকে উত্যক্ত করায় আমিরকে স্থানীয়রা আটক করেছিল। এসময় তার বাবা তাকে শাসন করে। এবারও একই কাজ করেছে শুনছি। এ ছেলেটার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। আর ও তো রাজনীতি করে না। ওর বাপ চাচারা ভাল মানুষ। তারা বিএনপির সমর্থক এলাকার সবাই জানে। 
  
মেয়েটির মা জানান, পরিবারের সবাই দিলে মেলায় গিয়েছিলাম। আমার মেয়ে রাইডে যখন উঠে ওর মামারা নিচে ছিল। রাইডে উঠার পর ছেলেটা মেয়ের সাথে অসভ্য আচরণ করে। এরপর আমার ভাইয়েরা ও ক্ষুব্ধ মানুষ ওকে মারধর করে। এঘটনায় আমি মামলা করেছি, ন্যায় বিচার পাব আশা করি। 

এ ব্যাপারে জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি কামাল হোসেন জানান, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারূপ করা হয়েছে। তিনিই আহত আমিরকে উদ্ধার করে ১ হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রাতে ফেসবুকে দেখি আমিই নাকি তাকে মারধর করেছি। 

তিনি আরো বলেন, আমার জানা মতে ও কোন রাজনীতি দলের সাথে জড়িত না। 

নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, এঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানতে পারি, একটি মেয়েকে শ্লীলতাহানিকে কেন্দ্র করে মেয়েটির মামা ও ক্ষুব্ধ মানুষ তাকে মারধর করেছে। তবে এটা রাজনৈতিক কোন ব্যাপারটা।

এএইচ