ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২৩ ১৪৩২

গ্রামাঞ্চলে অন্ধকারে গণভোট!

বেনাপোল প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৩:৪১ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

আর মাত্র ৬ দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত। নিজ দলের পক্ষে ভোট চাইতে তারা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। আয়োজিত হচ্ছে মিছিল-সমাবেশ। কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট সম্পর্কে গ্রামাঞ্চলের ভোটাররা এখনও রয়ে গেছেন অস্পষ্টতায়। 

সচেতন ভোটাররা এ বিষয়ে কম-বেশি সচেতন হলেও গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত ভোটারদের অনেকেই রয়ে গেছেন অন্ধকারে।

এবার আসন্ন নির্বাচনে সীমান্ত জনপদ শার্শা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে যশোর-১ আসন গঠিত। দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এই আসনে অবস্থিত। যশোর-১ আসনে এবার বিএনপি, জামায়াত ইসলামী, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মোট ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে বর্তমানে মোট ভোটার তিন লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন। মহিলা ভোটার এক লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার ৩ জন।

বেনাপোল ও উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় ভোট নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোটের বিষয়ে আলোচনা তেমন নেই। গণভোটে গ্রামাঞ্চলের মানুষের আগ্রহ কম। তারা পছন্দের প্রতীকে ভোট দিবেন।

সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এ সংক্রান্ত প্রচারনা নেই বললেই চলে। 

প্রার্থীরাও নিজেদের প্রতীকে ভোট চাচ্ছেন। ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ব্যাপারে কিছুই বলছে না। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।

বেনাপোল পৌরসভার দিঘীরপাড় গ্রামের ভোটার আনিছুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোটের কথা আমি কিছুই বুঝি না। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছি। প্রতীক ছাড়া ভোট দেওয়া আমার জন্য কঠিন।’

ওই এলাকার ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, ‘যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দেব। শার্শার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোট সম্পর্কে কিছুই জানি না।’

বাগআঁচড়া এলাকার নাজিম উদ্দিন জানান, একদিন ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোটের গাড়ি এসেছিল। তারপর থেকে আর কোন প্রচার নেই। আমরা প্রতীকেই ভোট দিয়ে আসছি দীর্ঘদিন ধরে।

যশোর-০১ আসনের বিএনপির প্রার্থী, শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন বলেন, আমরা প্রচার করার সময় আমাদের প্রতীকের ভোট চাওয়ার পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোটের প্রচারও করছি। দলীয় নেতাকর্মীরাও প্রচার করছেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ আজীজুর রহমান বলেন, আমি ও আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিটি সমাবেশ-উঠান বৈঠক ও প্রচারণার সময় আমাদের প্রতীকের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ‘না’ ভোট প্রদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করি, এ আসনে হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হবে।

এ বিষয় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউপিও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এখনো নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পোস্টার বা মাইকিং, ভোটের গাড়িসহ উঠান বৈঠক, সরাসরি আলোচনা এবং সরকারি ও বেসরকারি টিভিতে বেশি বেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ ও সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি কাটনো হচ্ছে। 

এএইচ