ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২৩ ১৪৩২

জামায়াত নেতার নির্দেশে ‘ভোটের সিল’ বানান, প্রেসমালিকের স্বীকারোক্তি

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৪:০১ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৪:০৩ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার প্রিন্টিং প্রেসের মালিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ সময় তিনি ভোটের সিল তৈরির নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ করেন।

বুধবার বিকালে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামির নাম সোহেল রানা (৪০)। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতার নির্দেশে সিলগুলো তৈরি করেছেন বলে জানান। 

মঙ্গলবার বিকালে শহরের পুরনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার, একটি মোবাইল ফোনসহ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফের নির্দেশে এসব সিল তৈরি করা হয়েছে বলে সোহেল রানা আদালতকে জানিয়েছেন। গত ৩০ জানুয়ারি তার হোয়াটসঅ্যাপে সিলগুলো তৈরির অর্ডার দেন শরীফ। এরপর তিনি সিলগুলো বানান।’

সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪) পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শাহজাহানের ছেলে। তিনি ওই ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি। এ ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সৌরভ হোসেনকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তার বিরুদ্ধে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ঘটনার পরপরই আমরা সৌরভকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি। তিনি ভোটারদের ভোট দেওয়া শেখানোর জন্য নাকি সিলগুলো তৈরি করেছেন। তবে এটা দায়িত্বহীন কাজ। এ ছাড়া যার দোকান থেকে সিল উদ্ধার হয়েছে, তিনি আমাদের দলের কেউ নন।’

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে ভোটের সিলসহ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ওই দিনই উদ্বেগ প্রকাশ করে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সংবাদ সম্মেলন করেন। 

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি বলেন, ‘স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর সিল তৈরির পেছনের উদ্দেশ্য এবং আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’

এএইচ