ঢাকা, সোমবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   মাঘ ২৭ ১৪৩২

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৫০ এএম, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট স্থগিত ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি। বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে সরকার হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা এলো।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা মো. হুমায়ূন কবীর ও মো. ইব্রাহীম খোকনের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটি নিয়ে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সাংবাদিকদের দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী বর্তমান সরকারের আমলে এনসিটি চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। নেতাদের সঙ্গে সন্তোষজনক আলোচনার প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাসের স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ধর্মঘট কর্মসূচি ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পাঁচ কর্মচারীকে গ্রেপ্তার ও হয়রানিমূলক মামলা, ১৫ কর্মচারীকে বিভিন্ন বন্দরে বদলি, আন্দোলনরত কর্মচারীদের শাস্তি, বাসা বরাদ্দ বাতিল এবং ১৬ কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তসহ যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এসব সমস্যার সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছিল বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচির কারণে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যসহ বন্দরের প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সফরে যান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন। সেখানে তিনি দফায় দফায় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বিকেলে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেন।

তবে ওইদিন আবার বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত ১৫ শ্রমিক নেতার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করে। পাশাপাশি তারা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়।

এর প্রতিবাদে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন করে চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর ফের রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার সকাল থেকে বন্দরের বিভিন্ন জেটি, টার্মিনাল, কনটেইনার ডিপো, বহির্নোঙরসহ বন্দরের সব স্থানে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন উপদেষ্টা বলেন, কতিপয় লোক পুরো চট্টগ্রাম বন্দরকে জিম্মি রাখার চেষ্টা করছে। কয়েকদিন পর রোজা। ১৮ কোটি মানুষকে তারা জিম্মি রাখছে। এটা চলতে দেয়া যায় না, যে কারণে হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে কয়েকজনকে ধরা হয়েছে, বাকিদেরও ধরা হবে।

এএইচ