ঢাকার ২০ আসনে জয় পেলেন যারা, ব্যবধান যতো
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৩:০০ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার | আপডেট: ০৩:০৯ পিএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দেখা যায় রাজধানী ঢাকার ২০ আসনে বিএনপি সমর্থিত ১৩টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ১টি আসনে জয়লাভ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে বিভিন্ন আসনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তারা বেসরকারিভাবে এসব ফলাফল ঘোষণা করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার ২০টি আসনে যেসব প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন-
ঢাকা-১
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবু আশফাক ঢাকা-১ আসনে জয় পেয়েছেন। ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৭২ হাজার ৪০২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ৮ হাজার ৯১০ ভোট।
ঢাকা-২
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান জয়ী হয়েছেন। তিনি এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব:) আব্দুল হক ৮০ হাজার ৫৩ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-৩
বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা-৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম। তিনি ৮২ হাজার ২৩২ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-৪
এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট।
ঢাকা-৫
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঢাকা-৫ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. নবী উল্লা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট।
ঢাকা-৬
এ আসনে বিএনপির ইশরাক হোসেন জয়ী হয়েছেনে। তিনি পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৪৬৫ ভোট।
ঢাকা-৭
বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ঢাকা-৭ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৫১৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৮১ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. হাবিবুল্লাহ বটগাছ প্রতীকে ২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-৮
এ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট। এ আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পেয়েছেন ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট। আর পোস্টাল ভোটে আব্বাস পেয়েছেন ২৮১৪ ভোট এবং নাসীরুদ্দীন পেয়েছেন ২৫৫৫ ভোট।
ঢাকা-৯
ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব ঢাকা-৯ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জাভেদ রাসিন পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী শাহ ইফতেখার আহসান পেয়েছেন ২৫ ভোট।
ঢাকা-১০
এ আসনে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জসীম উদ্দিন সরকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট।
ঢাকা-১১
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে জয় পেয়েছেন। তিনি ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী এমএ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট, যা নাহিদ ইসলামের চেয়ে ২ হাজার ৩৯ ভোট কম।
ঢাকা-১২
এ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম। তিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অর্থাৎ সাইফুল হক থেকে ২২ হাজার ১৮০ ভোট বেশি পেয়েছেন সাইফুল আলম। এদিকে, তৃতীয় অবস্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট।
ঢাকা-১৩
বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ১৩৮ কেন্দ্র ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে ববি হাজ্জাজ ৯০ হাজার ৬০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ১১–দল সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮৮৯ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ৩৭১২।
ঢাকা -১৪
এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট। এতে ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।
ঢাকা-১৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে। তিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট পেয়েছেন। আর তৃতীয় অবস্থানে আছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সামসুল হক। তিনি লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন এক হাজার ৪২১ ভোট। এই অতিগুরুত্বপূর্ণ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কাস্তে প্রতীকের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী আহাম্মদ সাজেদুল হক (৭৯৬), প্রজাপতি প্রতীকের আমজনতার দলের প্রার্থী নীলাভ পারভেজ (৭০৫), কলম প্রতীকের জনতার দলের প্রার্থী খান শোয়েব আমান উল্লাহ (৩৭৮) প্রমুখ।
ঢাকা-১৬
ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হককে হারিয়ে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
ঢাকা-১৭
এ আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের চেয়ে চার হাজার ৩৯৯ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। পোস্টালসহ ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। আর ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট।
ঢাকা-১৮
বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর ঢাকা-১৮ আসনে জয়ী হয়েছেন। তিনি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট।
ঢাকা-১৯
এ আসনে জয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। তিনি পেয়েছেন এক লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির দিলশানা পারুল পেয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
ঢাকা-২০
এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. তমিজ উদ্দিন বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন। তমিজ উদ্দিন পেয়েছেন এক লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাবিলা তাসনিম পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭ ভোট।
এএইচ
