ঢাকা, সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২

ওমরাহ শেষে ফেরার পথে একই পরিবারের চার জনসহ ৫ বাংলাদেশি নিহত

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৪:৩৭ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৫:১৬ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

সৌদি আরবে ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ৫ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যিনি চিকিৎসাধীন। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন নিহতদের স্বজনরা।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে রবিবার সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১৩) ও দেড় বছর বয়সী মেয়ে সুবহা আক্তার। একই দূর্ঘটনায় গাড়ী চালক রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের বিষ্ণপুর পাটোয়ারী বাড়ীর আবুল হোসেন পাটোয়ারী খোকার ছেলে হোসেন মোহাম্মদ জিলানী প্রকাশ বাবর (৩০) মারা যান।

এদিকে মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুতর আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। 

নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহিদ উল্যার ছেলে। নিহত প্রবাসী গাড়ির ড্রাইভার একই ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। মা খুকি বেগম কাঁদতে কাঁদতে অস্থির বাবা শহিদ উল্যাহ অচেতন হয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী।

নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম জানান, মিজান সৌদি প্রবাসী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী ও ৩ মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ হজে যান। পাঁচদিন আগে ওমরাহ করার উদ্দেশ্যে তারা সৌদির বাসা থেকে বের হন। ওমরাহ শেষে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে ওই দুর্ঘনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমানের মামাতো ভাই রিফাতুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী গ্রামের সৌদি প্রবাসী পারভেজ ভূঁইয়ার মাধ্যমে তারা মিজানসহ পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়া মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দীন চৌধুরী জানান, আপনার ফোন পাওয়ার কিছুক্ষণ আগে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। লাশ দেশে আনার ব্যপারে সিদ্ধান্ত হলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো।

এ ঘটনায় রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাশিদ বিন এনামকে বার বার মোবাইলে কল দেয়ার পরও তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এএইচ