ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ৪ ১৪৩২

বিএনপির ব্যানার লাগিয়ে জমি দখল করে দোকান, গুঁড়িয়ে দিল ছাত্রদল

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:৫৪ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর তীরে বিএনপির ব্যানার লাগিয়ে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। 

গত শনিবার রাতে অবৈধ স্থাপনাগুলো ভেঙে দেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত শুক্রবার রাতে কয়েকজন দখলদার নদীর কস্তুরাঘাট অংশে অন্তত ১৫টি বাঁশ ও টিন দিয়ে তৈরি অস্থায়ী দোকানঘর নির্মাণ করেন। টিনের একটি দোকানে কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত একটি ধানের শীষের ব্যানারও টাঙিয়ে দেওয়া হয়। 

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়, সংসদ সদস্য কাজলের নাম ব্যবহার করে বাঁকখালী নদী দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হচ্ছে। দখলের কিছু ভিডিও চিত্রও ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ হন লুৎফুর রহমান কাজল। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের উদ্দেশে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে লেখেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে ধরিয়ে দিন, পুরস্কৃত করা হবে। দখলবাজি, বালু উত্তোলনও বন্ধ থাকবে। পর্যটন শহর কক্সবাজারকে নিরাপদ রাখাই এখন প্রধান কাজ।’ 

এরপর গত শনিবার রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধ দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে লুৎফুর রহমান কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, বাঁকখালী নদীর কিছু জমির মালিকানা নিয়ে বিতর্ক আছে। মামলা ও রিটও আছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যৌথবাহিনীর উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সুরাহা করা যায়। কিন্তু অবৈধভাবে কাউকে নদী বা নদীবন্দরের জমি দখল করে স্থাপনা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। যাঁরা তাঁর নির্বাচনী ব্যানার ঝুলিয়েছেন, তাঁদের শনাক্তকরণের কাজ চলছে।

ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে নদীর জায়গায় স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছিল। এ কারণে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেসব গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

গত বছরের ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ৪৯৬টি অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে প্রায় ৬৩ একর জমি উদ্ধার করেছিল। উদ্ধার করা ওই জমি আবার দখলের ঝুঁকি থাকায় কাঁটাতারের বেড়া ও সীমানা পিলার দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিআইডব্লিউটিএ। 

গত ৭ ডিসেম্বর সীমানা স্থাপনের জন্য গেলে যৌথবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘাত শুরু হয়। প্রতিবাদে কয়েক শ নারী-পুরুষ বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে করে রাখেন। ফলে বিআইডব্লিউটিএসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পিছু হটতে হয়। উদ্ধার হওয়া জায়গাটি সেই থেকে অরক্ষিত পড়ে ছিল।

এএইচ