ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় হিরো আলম গ্রেপ্তার
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৭:৪০ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার
বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে ধাওয়া করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের থানা-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ দায়ের করা ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় তার বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ-সংক্রান্ত চিঠি সম্প্রতি পুলিশের কাছে পৌঁছায়।
তিনি বলেন, হিরো আলম নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন তথ্য পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তিনি ঢাকায় পালানোর চেষ্টা করেন। পরে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে শাজাহানপুর থানা-সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটি করেন। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার অপর পাঁচ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে এক মৌলভি ডেকে কবুল করিয়ে বিয়ে করার কথা বলে বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে তার সঙ্গে বসবাস করা হয়। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে গত বছরের ১৮ এপ্রিল তাকে বগুড়ার নিজ বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। গুরুতর রক্তক্ষরণ হলে তাকে শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার গর্ভপাত ঘটে। পরবর্তী সময়ে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এ ছাড়া সিনেমা নির্মাণের কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমআর//
