শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ইরান
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১০:৪৫ এএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার
ইরানে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভে নেমেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেই ইরানের ভেতরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।
রাজধানী তেহরানে রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা ও ইরানের সাধারণ লোকজন।
এক প্রতিবেদনে এএফপি জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে যারা নিহত হয়েছিলেন, সেই নিহতদের স্মরণ করে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে শনিবার রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করে দেশটির তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী অংশ।
তাদের বিক্ষোভের পাল্টায় সরকারের পক্ষে মিছিল-সমাবেশের ডাক দেয় ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষে থাকা তরুণ-তরুণীরা।
ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জনিয়েছে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমিরকবির বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন।
এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানের সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহালভির সময়ে পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন, সেই মিছিলে ব্যাপকভাবে দেওয়া হচ্ছে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান। স্লোগানে তারা ফের ইরানে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিও জানাচ্ছেন।
বিক্ষোভের সময় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাইরে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ধাক্কাধাক্কির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুত কমাতে রাজি হয়েছে ইরান।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ এর বরাতে জানা যায়, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ২০ শতাংশ বা তার নিচে নামাতে রাজি হয়েছে তেহরান। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ৩০০ কেজি ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে সম্মত নয় দেশটি। এই প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শিগগিরই উপস্থাপন করবে ইরান।
গত ডিসেম্বরের শেষ থেকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ইরানে, নজিরবিহীন কঠোরতার মাধ্যমে তা দমন করেছিল ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাসদস্যদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ।
আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)- এর ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বিক্ষোভে নিহত হয়েছেন ৭ হাজারেরও বেশি লোকজন।
তবে ইরানের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানে নিহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।
এএইচ
