ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ১২ ১৪৩২

বান্দরবানে সেনাবাহিনী-জেএসএস গোলাগুলিতে নিহত ১, অস্ত্র উদ্ধার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৪৩ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে পাহাড়ের সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-মূল) গোলাগুলির ঘটনায় হ্লামংনু মার্মা নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। 

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের মুরুং বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগানসহ (এসএমজি) বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সদস্যরা গাড়ি আটকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করছে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল সেখানে অভিযান চালায়। সেনাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সদস্যরা পালানোর চেষ্টাকালে গুলি ছুড়লে সেনাবাহিনীও পাল্টা গুলি চালিয়ে তাদের ধাওয়া করে। 

একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলেও পরে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

গোলাগুলি শেষে সেনা সদস্যরা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় হ্লামংনু মার্মাকে গুলিবিদ্ধ উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

ঘটনাস্থল থেকে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১৪৩ রাউন্ড এসএমজি গুলি, ১৪ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ব্লাঙ্ক অ্যামোনিশন, দুটি ম্যাগাজিন ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

রোয়াংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাকের আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সেনাবাহিনীর সঙ্গে জেএসএসের গোলাগুলির ঘটনায় একজন আহত হয়েছিলেন, যিনি পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।

এদিকে আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর এবং সশস্ত্র দলগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এএইচ