ঢাকা, মঙ্গলবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,   ফাল্গুন ১২ ১৪৩২

সৌদিতে দুর্ঘটনায় মা-বাবা-বোন হারানো সেই ফাইজা বাড়ি ফিরেছে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:০৭ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:৪৮ এএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

সৌদি আরবে ওমরাহ হজ্ব শেষে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার শিশু শিক্ষার্থী ফাইজা আক্তার (১০) অবশেষে বাড়িতে ফিরেছে। তবে হৃদয়বিদারক সত্যটি এখনো তার অজানা—তার বাবা-মা ও দুই বোন আর বেঁচে নেই। 

ফাইজা জানে, তার মতোই তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে এবং শিগগিরই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। এরপর সবাই মিলে ঈদ উদযাপন করবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাড়িতে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফাইজা সরল বিশ্বাসে জানায়, নতুন জামা পরে সে বাবার সঙ্গে ঈদ মেলায় যাবে। সঙ্গে থাকবে তার দুই বোন। ঈদের দিন তারা অনেক আনন্দ করবে।

তবে পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় কাউকে ভিডিও ধারণ করতে দেননি।

জানা গেছে, রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে ফাইজাকে নিয়ে তার মামা তানভীর হোসেন দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সোমবার ভোর রাতে তারা রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়িতে পৌঁছান। বাড়িতে ফেরার পথে ফাইজার কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ফাইজা ভাটরা ইউনিয়নের টিউরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের জেদ্দা শহরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পাঁচ দিন কিংস ফয়সাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চিকিৎসা শেষে মামা তানভীর হোসেনের সঙ্গে সে দেশে ফিরে আসে।

তানভীর হোসেন জানান, ফাইজা এখনো জানে না তার বাবা-মা ও দুই বোন মারা গেছে। সে বিশ্বাস করে, তার বাবা-মা ও বোনেরা তার মতোই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে। নিহতদের মরদেহ এখনো জেদ্দার হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। সেগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রসঙ্গত, সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০) গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০) ও তিন মেয়েকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। ওমরাহ শেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে তাদের বহনকারী গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। 

এতে মিজান, তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি, স্কুলছাত্রী মেহের আফরোজ (১৩), দেড় বছর বয়সী সুবহা আক্তার এবং একই গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবর (৩০) নিহত হন। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় ফাইজা। সে এখন শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও মানসিকভাবে পুরো ঘটনার সত্য থেকে সম্পূর্ণ অজানা।

রামগঞ্জজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্না আর ফাইজার নিষ্পাপ অপেক্ষা—দুটি ভিন্ন বাস্তবতা যেন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে।

এএইচ