রাজশাহীতে ৮ ডাকাতকে ধরে গণপিটুনি, নিহত ১
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:৪১ পিএম, ২ মার্চ ২০২৬ সোমবার
রাজশাহীর পুঠিয়ায় আট ডাকাতকে ধরে গণপিটুনি দিয়েছে গ্রামবাসীরা। এতে ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য সাতজনকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুটিয়া উপজেলার পলাশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি পিকাপ ভ্যান আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
নিহত ব্যক্তি মো. শাহীন (৫৫)। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামে তার বাড়ি। নিহত শাহীনের বাবার নাম আকরাম আলী।
বাকি সাতজনের বাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং এরা সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম গভীর রাতে একটি ট্রাকে আটজন লোক ঘরের তালা কাটা যন্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পলাশি বাজারে প্রবেশ করে। এসময় গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতার মারপিটে ঘটনাস্থলে একজন মারা যান। বাকি সাতজনকে আহত অবস্থায় আটকে রাখে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে সোমবার সকালে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে পাঠায়। এছাড়াও নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আহত ডাকাত সদস্যরা হলেন- রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চকপলাশী গ্রামের লালুর ছেলে মোঃ শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরানী বাজার এলাকার মৃত সোনা মিয়া ছেলে শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাই থানার নানজেগুড়ি এলাকার মাহির ছেলে খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার বামালের চর গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার কুটিবয়রা গ্রামের একানদানি সরকারের ছেলে মামুন (৪২) এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে তারা মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। অন্য সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবং একজন ভর্তি করা হয়েছে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। তাদের শারীরীক অবস্থা স্থিতিশীল।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাত দলটি ডাকাতি করতে গিয়েছিল। ডাকাতির প্রস্তুতির সময় গ্রামবাসী তাদের ধরে ফেলেন। এরপর তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। সকালে খবর পেয়ে তারা ৮ জনকে উদ্ধার করেন। যাদের মধ্যে একজন মারা যান। বাকিদের পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য বলে জানান তিনি।
এএইচ
