ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০৫ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২১ ১৪৩২

সংরক্ষিত নারী আসনের দৌড়ে রাজশাহীর ‘কারা নির্যাতিত’ নেত্রী

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:৪০ এএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার

রাজশাহীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অ্যাডভোকেট শামসাদ বেগম মিতালী।

দীর্ঘদিনের রাজপথের রাজনীতি, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি ইতোমধ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

বর্তমানে তিনি রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন। 

দলীয় সূত্র বলছে, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি এবং গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন মিতালী।

রাজনৈতিক জীবনের এক পর্যায়ে কারাবরণ করায় তিনি ‘কারা নির্যাতিত নেত্রী’ হিসেবেও পরিচিত। ২০১৪ সালে একটি মিছিল থেকে তাকে আটক করে একটি অন্ধকার কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করেন তার ঘনিষ্ঠরা।

রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা মিতালীর বাবা আব্দুল হামিদ মরু ছিলেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অন্যতম সংগঠক এবং রাজশাহী জেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে সন্ত্রাসীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন আব্দুল হামিদ মরু। এ ঘটনা সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার ইতিহাস- এই তিন বিবেচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নের দৌড়ে শামসাদ বেগম মিতালীকে শক্ত অবস্থানে দেখছেন রাজশাহীর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে মিতালী বলেন, “দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থেকেছি, নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়েছি। আমার ত্যাগ ও অবদান দল মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি।”

তবে শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড-এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এএইচ