ফরিদপুরে যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৩২ পিএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ১০:৩৩ পিএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. জাকির মোল্লা (৪৬)কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার মঙ্গলকোট এলাকার জাকির মোল্লার সঙ্গে সালথা উপজেলার ভাবুকদিয়া গ্রামের রেখা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর, ২০১৫ সাল থেকে জাকির মোল্লা স্ত্রীর পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন।
সংসার টিকিয়ে রাখতে রেখার পরিবার জমি বিক্রি করে সেই টাকা দিলেও কিছুদিন পর আবারও অর্থ দাবি করেন জাকির। টাকা না পেয়ে তিনি স্ত্রীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে রেখা বেগমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় চার দিন পর ২৬ অক্টোবর নিহতের চাচা মো. বাচ্চু খান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর পুলিশ কেবল জাকির মোল্লাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত বৃহস্পতিবার এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধির কারণে একটি নিরপরাধ প্রাণ ঝরে গেছে। আদালতের এই রায় সমাজে যৌতুকবিরোধী একটি কঠোর বার্তা পৌঁছে দেবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জাকির মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এমআর//
