ঢাকা, শনিবার   ০৭ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২

পরকীয়া দ্বন্দ্বের জেরে বৃদ্ধকে কিলঘুষির ভিডিও ভাইরাল, থানায় মামলা

ফরিদপুর প্রতিনিধি 

প্রকাশিত : ১২:৪৮ পিএম, ৭ মার্চ ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০১:৩৩ পিএম, ৭ মার্চ ২০২৬ শনিবার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রকাশ্যে এক বৃদ্ধকে মারধর ও তার ছেলের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ইয়াদ শেখ (৪০) নামে এক নেতার বিরুদ্ধে। 

শুক্রবার দুপুরের দিকে জুমার নামাজ শেষে মসজিদের সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত ইয়াদ শেখ আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বলে দাবি করলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, আগের কমিটি বাতিল হওয়ার পর বর্তমানে তার কোনো পদ নেই।

এ ঘটনায় আহত মনোয়ার খান (৬৫) আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় থানায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরে মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি মো. হাসনাত খান। 

থানায় অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ার খানের ছেলে মাসুদ পারভেজ (৩৫) দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসে ছিলেন। এ সময় তার স্ত্রী লিমা খান (২৭) দুই সন্তান নিয়ে গ্রামেই বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময়ের মধ্যেই লিমা খানের সঙ্গে ইয়াদ শেখের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত বছরের ২৩ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে মাসুদ পারভেজ তার স্ত্রীকে তালাক দেন।

পরিবারের দাবি, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি মাসুদ পারভেজ দেশে ফেরার পর ইয়াদ শেখ তাকে সাবেক স্ত্রীকে আবার বাড়িতে তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে বিরোধ আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে আলফাডাঙ্গা নূরানী জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় মনোয়ার খানের ওপর হামলা চালানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের দাবি, ইয়াদ শেখ কয়েকজন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্যে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। পরে হামলাকারীরা মাসুদ পারভেজের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। 

এ ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এক বৃদ্ধকে কিল-ঘুষি মারছেন। আশপাশে কয়েকজন যুবক দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা কেউ বাধা দেননি। এক পর্যায়ে পাশের একজন ব্যক্তি এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ধরে ফেলেন এবং আহত বৃদ্ধকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। 

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইয়াদ শেখ বলেন, “একটা হালকা মারামারি হয়েছে। এটা পারিবারিক বিষয়। এর বেশি কিছু বলা যাবে না।”

তবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, এক সময়ে উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন ইয়াদ মিয়া। পরবর্তিতে ওই কমিটি বাতিল করে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত খান জানান, পরকীয়া সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাড়িতে হামলার অভিযোগও পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে”।

এএইচ