ঢাকা, শনিবার   ০৭ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২৩ ১৪৩২

নরসিংদীর সেই কিশোরীকে হত্যা করেছিল সৎপিতা, আদালতে জবানবন্দি

নরসিংদী প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৪:২৪ পিএম, ৭ মার্চ ২০২৬ শনিবার

নরসিংদীতে আলোচিত (১৫) বছর বয়সী কিশোরী আমেনাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন সৎপিতা আশরাফ আলী। 

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুলাহ আল-ফারুক। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নরসিংদীর মাধবদী থেকে সন্দেহের তালিকায় থাকা সৎপিতা আশরাফ আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজের সৎ মেয়েকে একাই গলাটিপে হত্যা এবং ধর্ষক নূর মোহাম্মদ নূরাসহ অন্যদের ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা নাটকের কথা জানান তিনি।

এসময় পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ একাধিক আসামী আমেনাকে গণধর্ষণ করে। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাবেক মেম্বারের বিচার কার্যসহ নানা কারণেই সৎ মেয়ের উপর ক্ষিপ্ত হওয়ার কথা জানায় আশরাফ আলী। পরবর্তীতে মেয়েকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে অপমান থেকে মুক্তি পাবার আশায় মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে জনৈক সুমনের বাড়িতে রেখে আসার কথা বলে একটি সরিষা ক্ষেতে পৌঁছে একাই গলা চেপে ধরে ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মেয়েটিকে। নিজেকে বাঁচাতে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নূরাসহ অন্যদের উপর দায় চাপানোর মিথ্যা নাটক সাজায় সে।

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় আলোচিত কিশোরী আমেনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহত আমেনার মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে নূরাকে প্রধান করে ৯ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। 

আলোচিত এই ঘটনায় মোট ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পহেলা মার্চ ৭ আসামিকে ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও হত্যার ঘটনা তাদের অজনা। এই রহস্য উদঘাটন করতে বাবার উপর নজরদারি করে গোয়েন্দা পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর মেলে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এএইচ