১৪ মার্চ ইমাম মোয়াজ্জিনদের ভাতা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৮:০০ পিএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ০৮:০৩ পিএম, ৮ মার্চ ২০২৬ রবিবার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৪ই মার্চ সারাদেশে ইমাম মোয়াজ্জিনদের জন্য সরকার প্রদত্ত মাসিক ভাতা কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।
রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্মমন্ত্রীর অফিস কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণ ভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতির কথা বলা ছিল একে একে সে সমস্ত প্রতিশ্রুতির ফ্ল্যাগশিপ যেসব প্রতিশ্রুতিগুলো আছে সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেয়া হয়েছে, আপনারা সেটা দেখেছেন- আমাদের ফ্যামিলি কাডর্, আমাদের কৃষক কার্ড নিয়ে অলরেডি আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়ে সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, সরকার প্রথম পর্যায়ে আসন্ন ঈদুল ফিতর ২০২৬ এর পূর্বেই একটি পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা চালু করার লক্ষ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়ন এবং প্রতিটি পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪৯০৮ টি মসজিদ এবং অন্যান্য উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা হতে দুটি করে মোট ৯৯০ টি মন্দির নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়াও সারাদেশে ৭২ টি উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুইটি করে মোট ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহার ও ১৯৮ টি উপজেলায় গির্জা অবস্থিত হওয়ায় প্রতিটি উপজেলা হতে দুইটি করে মোট ৩৯৬ টি গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি মসজিদের ইমাম সাহেব পাবেন ৫,০০০ টাকা করে সম্মানী। মুয়াজ্জিন সাহেব পাবেন ৩,০০০ টাকা করে সম্মানী। খাদেম সাহেব পাবেন ২,০০০ টাকা করে সম্মানী। তার মানে প্রতিটি মসজিদে মাসিক ১০,০০০ টাকা করে দেয়া হবে।
পুরোহিত মন্দিরের পুরোহিত পাবেন ৫,০০০ টাকা। সেবা সায়েদ পাবেন ৩,০০০ টাকা। বৌদ্ধ বিহারের বিহার অধ্যক্ষ পাবেন ৫,০০০ এবং বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন ৩,০০০। গির্জার যাজক পাবেন ৫,০০০ এবং সহকারী যাজক পাবেন ৩,০০০ টাকা। মানে প্রতিটি গির্জা, মন্দির এবং বুদ্ধ মন্দিরে দেওয়া হচ্ছে ৮,০০০ টাকা ।
তিনি বলেন, এছাড়া প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে ১,০০০ টাকা করে এবং দুর্গাপূজা বৌদ্ধ মা ও বড়দিনে সংশ্লিষ্ট পুরোহিত সেবায়িত বিহার অধ্যক্ষ বিহার উপাধ্যক্ষ যাজক ও সহকারী যাজকদেরকে ২,০০০ টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, এই সম্মানী প্রদানের জন্য চলতি অর্থবছরে ২৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হবে। আগামী ১৫ই মার্চ তারিখের মধ্যে নির্বাচিত সকল উপকার ভোগীর নিকট সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে এই সম্মানী প্রেরণ করা হবে।
তিনি বলেন, সম্মানী কোন হাতে হাতে দেয়া হবে না। তাদের ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে এই টাকা তাদের একাউন্টে পৌঁছে যাবে। অতএব কোন ধরনের দুর্নীতির মত সুযোগ আমরা এই সিস্টেমের মধ্যে রাখিনি।
এমআর//
