ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২৫ ১৪৩২

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫জন আটক, অস্ত্র উদ্ধার

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৪৭ পিএম, ৯ মার্চ ২০২৬ সোমবার

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর ও আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী দমন এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের লক্ষ্যে ভোর থেকে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন। 

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবীব পলাশ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভোর থেকে যৌথবাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করে। র‌্যাব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও এপিবিএনের মোট প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য এতে অংশ নিয়েছেন। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বিশাল এই এলাকায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং তা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে অভিযানের সময় জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এলাকার ‘ইয়াসিন বাহিনী’র প্রধান মো. ইয়াসিন পালিয়ে গেছে বলে জানান ডিআইজি। তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

অভিযানে কিছু অস্ত্র উদ্ধার এবং প্রায় ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে জানিয়ে ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ  বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী পূর্ণ অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এলাকার অনেক স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আটকদের পরিচয় পরে জানানো হবে। 

তিনি বলেন, ‘দুর্গম এই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে র‌্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ থেকেই দুটি ক্যাম্প থাকবে; একটি পুলিশের এবং অন্যটি র‌্যাবের।’

এদিকে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন বলেন, এলাকাটিতে প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এখন সম্ভব হয়েছে। সরকার আগে থেকেই এই অঞ্চল ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েছিল, এখন সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী ভারী অস্ত্র মোতায়েন করা হবে বলেও জানান ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ। 

সবশেষ গত ১৯শে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‌্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। আহত হন আরও তিনজন। 

মূলত ওই ঘটনার কারণেই মাদক, অস্ত্র ও নানা বাহিনীর জন্য আলোচিত হয়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

এমআর//