ঢাকা, মঙ্গলবার   ১০ মার্চ ২০২৬,   ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২

শিগগিরই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে: ট্রাম্প

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:৫৮ এএম, ১০ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার

ইরানে এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জয়ী হয়েছে কিন্তু তা 'যথেষ্ট নয়' বলে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শিগগিরই ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

রিপাবলিকান সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডন্টে।

এ পর্যন্ত ট্রাম্প অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ বা ইরান অভিযান নিয়ে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে তেমন বিশদ কিছু জানাননি। তবে সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতির অগ্রগতিতে তিনি স্পষ্টতই সন্তুষ্ট—

মার্কিন সেনাবাহিনীর সক্ষমতা ও  তাদের সাফল্যের প্রশংসা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমাদের ইসরায়েলি অংশীদারদের সঙ্গে আমরা শত্রুকে চূর্ণ করছি—প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সামরিক শক্তির এক অভাবনীয় প্রদর্শনের মাধ্যমে।”

মার্কিন সেনাবাহিনীর ইরানে 'অভিযান' কতদিন চলবে—এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ অভিযান 'শিগগির' শেষ হবে, তবে এই সপ্তাহে নয়।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি শিগগিরই। ইরানের যা কিছু ছিল সব শেষ হয়ে গেছে, তাদের নেতৃত্বসহ।”

ট্রাম্প আরও বলেন, “যাকে (আয়াতুল্লার স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে তারা বলছে, অধিকাংশ মানুষ তার নামই শোনেনি।” একইসঙ্গে তিনি এটাও বলেন, ইরানে 'যথেষ্ট জয়' পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

ফ্লোরিডায় তিনি সাংবাদিকদের সামনে এটাও বলেন, যুদ্ধ "খুবই পূর্ণাঙ্গ, প্রায় শেষের দিকে"।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি ছোট্ট অভিযান চালিয়েছি, কারণ কিছু খারাপ জিনিস সরিয়ে ফেলতে আমাদের তা করতে হয়েছে। তারপর আপনারা দেখবেন, এটি খুব স্বল্পমেয়াদি অভিযান হবে।”

“আমরা অনেকভাবে ইতোমধ্যেই জয়ী হয়েছি, কিন্তু যথেষ্ট নয়। আমরা আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছি চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের দিকে—যা এই দীর্ঘস্থায়ী হুমকির চিরসমাপ্তি ঘটাবে” বলেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক নেতা কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “সে বেঁচে থাকলে তারা আরও অনেক বেশি সক্ষম হতে পারত। কারণ তারা সক্ষম ছিল—নিষ্ঠুর, হিংস্র এবং সক্ষম। কিন্তু আমরা প্রথমেই তাকে সরিয়ে দিয়েছিলাম।”

ইরানে নেতৃত্ব পবির্তনের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তবে কাকে ক্ষমতায় আনতে চান সে ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি আগে।

আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার দাবি করার পর যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, যেই তার স্থলাভিষিক্ত হবে তাকেই টার্গেট করা হবে।

গতকাল ট্রাম্প বলেন, “এখন কেউই ধারণা করতে পারছে না, দেশটিতে (ইরানে) কারা নেতৃত্বে আসছে”—এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করছেন সম্ভবত, তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, কিংবা বিমান হামলা কিছুটা শিথিল করতে ইচ্ছুক।

তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর দশ দিন পর সংঘাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে এর প্রভাব পড়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।

এএইচ