বাংলাদেশসহ ১৬ দেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্য তদন্ত শুরু যুক্তরাষ্ট্রের
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:০৩ পিএম, ১২ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশে উৎপাদন খাত নিয়ে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত তাঁর আগের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিষ্কার করে দিয়েছেন—ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে যে শত শত বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রাজস্ব হারিয়ে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে তারা নতুন আইনি পথ ব্যবহার করে আবারও শুল্ক আরোপ করতে চান।
এই ক্ষেত্রে প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১ অনুযায়ী তদন্ত শুরু করছে। এই তদন্তের ফলাফল শেষ পর্যন্ত নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের দিকে যেতে পারে।
তবে বুধবার (১১ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, তিনি আগেভাগেই তদন্তের ফল নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
গ্রিয়ার বলেন, ‘নীতিটা একই আছে। তবে আদালত বা অন্য নানা বিষয়ের ওঠানামার কারণে ব্যবহৃত উপকরণ বদলাতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, মূল লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান রক্ষা করা।
জেমিসন গ্রিয়ার জানান, তদন্তে দেখা হবে বিদেশি শিল্প খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা আছে কি না এবং বিদেশি সরকারগুলো তাদের কোম্পানিগুলোকে এমন সহায়তা দিচ্ছে কি না, যা মার্কিন কোম্পানিগুলোর তুলনায় অন্যায্য সুবিধা তৈরি করে।
তদন্তের আওতায় রয়েছে-চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, বাংলাদেশ, মেক্সিকো, জাপান ও ভারত।
এদিকে উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে অন্য ১৫ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম আসাটা অস্বস্তির বলে মন্তব্য করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সকালে তিনি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের নাম আসার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নিজেদের স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় থেকে এমন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড়। তবে তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসাটা যৌক্তিক নয়। তার কারণ, দেশটিতে আমাদের রপ্তানির বড় অংশই তৈরি পোশাক। আর আমরা যেসব তৈরি পোশাক উৎপাদন করি, সেগুলো মার্কিন ব্যবসায়ীরা কখনোই করবেন না।
বিজিএমইএর সভাপতি আরও বলেন, যেহেতু তদন্তে বাংলাদেশের নাম এসেছে, সেহেতু সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অগ্রিম যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। যেন আমরা ভালোভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে পারি।
এমআর//
