ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু: প্রধানমন্ত্রী
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০১:৪৫ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০২:৪৮ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬ শনিবার
ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাজে পিছিয়ে থাকা ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত সেবায়েত, অধ্যক্ষ্য ও ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি একইসঙ্গে ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও সম্মানি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ আয়োজনে সম্মানি গ্রহণ করে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সুবিধাভোগীরা।
জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ডও পর্যায়ক্রমিকভাবে সারা বাংলাদেশে চার কোটি পরিবারের হাতে পৌছানোর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশের প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিতের মাধ্যমে দেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির উপরে প্রতিষ্ঠিত করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একইসঙ্গে নাগরিকদেরও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে সরকার।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি মানুষের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে, কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, উদারতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন ছাড়া প্রকৃত মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে না। এসব মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিহিংসা ও সহিংসতামুক্ত একটি সমাজ গঠনে ধর্মের এই মানবিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ রয়েছে এবং এগুলোকে ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি স্মরণ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশে ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু হয়েছিল এবং পরে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রম চালু করেছিল।
অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান, সবাই মিলে আমরা ভালো থাকব।
এএইচ
