প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ
রংপুরে তামাক চাষ বন্ধের আশঙ্কা, এমপিদের কাছে চাষিদের চিঠি
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৫:২৭ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬ শনিবার
প্রস্তাবিত ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬ পাস হলে রংপুর বিভাগে তামাক চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তাদের মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে এ অঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক ও তামাক খাতের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার ওপর। মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনা না করে এ আইন করা হলে তা কৃষি খাত ও কৃষকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সম্প্রতি রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়া চিঠিতে এমন উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় তামাক চাষিরা। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করার পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষকরা যেসব সংসদ সদস্যের কাছে এই চিঠি দিয়েছেন তারা হলেন— রংপুর-৩ আসনের মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল), লালমনিরহাট-২ আসনের মো. রোকন উদ্দিন বাবুল, নীলফামারী-১ আসনের মো. আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-৩ আসনের ওবায়দুল্লাহ সালাফী এবং গাইবান্ধা-৩ আসনের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
সংসদ সদস্যদের কাছে দেওয়া চিঠিতে স্থানীয় তামাক চাষিদের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা আপনার এলাকার সাধারণ কৃষক। বংশপরম্পরায় তামাক আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করি। তামাক চাষ আমাদের কাছে কেবল একটি ফসল নয়— এটি আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা, সন্তানদের শিক্ষার ব্যয়, ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং গ্রামের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।”
চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি প্রণীত খসড়া ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর ৭(৫) উপধারায় উল্লেখ করা হয়েছে— তিন ফসলি জমিতে তামাক আবাদ নিষিদ্ধ এবং এক বা দুই ফসলি জমিতে তা ধীরে ধীরে সীমিত করা হবে। এই বিধান বাস্তবায়ন হলে তাদের এলাকায় তামাক আবাদ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়বে এবং এতে তাদের উপার্জন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে জীবিকা সংকটে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে কৃষকরা বলেন, এতে তামাক চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে হাজারো কৃষক ও তাদের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের আয়ের ওপর।
চাষিদের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, রংপুর বিভাগের রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলায় দীর্ঘদিন ধরে তামাক চাষ হয়ে আসছে। এই চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেক কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সম্পৃক্ত। নতুন ভূমি অধ্যাদেশে জমির ব্যবহার নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাব থাকায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এতে বলা হয়, তামাক একটি চুক্তিভিত্তিক ফসল, যা কৃষকদের নিশ্চিত আয় প্রদান করে। অন্যান্য ফসলের মতো এর দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে ওঠানামা করে না। সরকার নির্ধারিত দরের ভিত্তিতে কৃষকরা সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পান, কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন হয় না। এ ধরনের সুবিধা অন্য কোনো ফসলে তারা পান না।
কৃষকরা বলেন, প্রয়োজনীয় আলোচনা ও পরামর্শ ছাড়া এ আইন প্রণয়ন হলে তা কৃষি খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
কৃষকদের মধ্যে চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন রংপুর সদর উপজেলার আজিজুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, মো. আলমগীর ও মো. শাহীন মিয়া। লালমনিরহাট জেলার পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন কালীগঞ্জ উপজেলার মো. খলিলুর রহমান, মো. আরিফুল ইসলাম ও আবু তালেব। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার মো. খোরশেদ, মো. রাশেদ আলী ও মো. আলি হোসেন এবং জলঢাকা উপজেলার মো. সোলেমান মিয়া ও মো. আলতাব মিয়া। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মো. শাহাজাহান, মো. সাজু মিয়া ও মো. ছাইফুল ইসলামও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এমআর//
