ঢাকা, সোমবার   ১৬ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১ ১৪৩২

জাবি শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশ হেফাজতে

সাহেদ জুয়েল, সাভার প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ০৯:২১ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬ রবিবার | আপডেট: ১১:৪৮ পিএম, ১৫ মার্চ ২০২৬ রবিবার

সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে সাভার উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের ইসলামনগর এলাকায় মো. সোহরাওয়ার্দী মিয়ার বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষ থেকে শারমিন জাহান খাদিজা (২৪) নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এনামুল হক মিয়া জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তার মাথায় ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাতের গভীর চিহ্ন ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহনাজ আক্তার জানান, বাড়ির মালিক দরজায় নক করলে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। তখন ওই কক্ষে খাদিজার স্বামীকে দেখা যায়। তিনি বলেন, কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় খাদিজার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। তবে তাদের মধ্যে আগে কোনো পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, তা তিনি বলতে পারেননি।

বাড়ির মালিক সুলতানা আক্তার জানান, প্রায় ছয় মাস আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এবং বিয়ের কাগজপত্র দেখিয়ে তারা বাসাটি ভাড়া নেন। এ সময় তাদের মধ্যে কোনো সমস্যা চোখে পড়েনি। ঈদ উপলক্ষে সেদিন তাদের গ্রামের বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। সকালে খাদিজার স্বামী ফাহিম বাইরে যান। বিকেলে নিচতলা থেকে শব্দ পেয়ে তিনি গিয়ে এ ঘটনা দেখতে পান। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

জানা যায়, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুরুইল গ্রামের হানিফ সরকারের ছেলে ফাহিম আল হাসানের সঙ্গে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে শারমিন জাহান খাদিজার গত বছরের ২৯ জুলাই কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে হয়। এরপর থেকে তারা ওই বাসায় বসবাস করছিলেন।

ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ছাড়া ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি আব্দুর রশীদ জিতু। তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনবে বলে আমরা আশা করছি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম রাশিদুল আলম বলেন, খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে গিয়েছি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

এমআর//