ববি’র এক ব্যাচের ৬৩ জনের মধ্যে আইনজীবী হলেন ৪০ শিক্ষার্থী
ববি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৪৯ এএম, ১৯ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় কৃতিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আইন বিভাগ। প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই আইন বিভাগের ৫ম ব্যাচের ৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪০ জন মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
রোববার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। বার কাউন্সিল কর্তৃক আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষায় সারা দেশ থেকে মোট ৮,৫৯৯ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৬টি ব্যাচ থেকে এখন পর্যন্ত ১০০-এর অধিক শিক্ষার্থী বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, যা একটি নবীন বিভাগের জন্য অভাবনীয় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সারা দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন আইন বিভাগের ৫ম ব্যাচের শিক্ষার্থী হালিমাতুস সাদিয়া। ধারাবাহিক এই সাফল্য বিভাগটির একাডেমিক শক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও আইন বিভাগের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩ সালে। প্রতিষ্ঠার স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভাগটি জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে আইন পেশা পরিচালনার জন্য আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। আইন পেশা শুরু করতে তাঁদের ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর একজন প্রার্থীকে প্রথমে একজন সিনিয়র আইনজীবীর অধীনে ছয় মাসের পিউপিলেজ সম্পন্ন করতে হয়। এরপর রেজিস্ট্রেশন নিয়ে তিন ধাপে—এমসিকিউ, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির সনদ প্রদান করা হয়।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান কায়সার আহম্মেদ জয় বলেন, “প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর উত্তীর্ণ হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনার ফল। জুডিশিয়ারি ও বার কাউন্সিল—উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথ তৈরি করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরমান সরদার বলেন, এই অর্জন আমাদের পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও সবার সহযোগিতায় আমরা এখানে পৌঁছেছি। একজন অ্যাডভোকেট হিসেবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষের অধিকার রক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।
সাবেক আরেক শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, “সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া আমার জন্য এক গর্বের মুহূর্ত। এই অর্জনের পেছনে আমার বাবা-মা, দুই বোন এবং প্রিয় মানুষের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দোয়া, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণাতেই আজ আমি নতুন পরিচয় তথা আইনজীবী হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে পেরেছি। সকলের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিক এই সাফল্যের মাধ্যমে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ দেশের আইন শিক্ষার অঙ্গনে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
এএইচ
