ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দু`পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত অর্ধশত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৪২ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন—গোয়ালনগর ইউনিয়নের সিমেরকান্দি জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিবুল্লাহ (৪০) এবং একই এলাকার আক্তার মিয়া (৫০)। হাবিবুর রহমান স্থানীয় হান্নান মিয়ার ছেলে। আক্তার মিয়া গোয়ালনগর গ্রামের হাছন আলীর ছেলে এবং চট্টগ্রামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা যথাক্রমে কাসেম মিয়া ও রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনায় জিয়াউর রহমান প্রতিপক্ষ কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করেন এবং পরবর্তীতে তাকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এর জের ধরে গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে ফের রহিম তালুকদার ও কাসেম মিয়া গোষ্ঠীর লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
সংঘর্ষ চলাকালে আক্তার মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত অবস্থায় হাবিবুর রহমানকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বলেন, দুইপক্ষে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লোকজন অংশগ্রহণ করেছে।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
এমআর//
