দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি
‘মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়, কিন্তু তাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না’
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০২:৫৬ পিএম, ২৬ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০২:৫৯ পিএম, ২৬ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া আট বছর বয়সী শিশু আলিফ জানায়, ঈদের ছুটি শেষে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় ফিরছিল সে। বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
ঘটনার বর্ণনায় আলিফ বলে, “আমি মায়ের কোলে বসে ছিলাম। বাসটি উল্টে নদীতে পড়ে গেলে মা আমাকে জানালা দিয়ে বের করে দেয়। আমি সাঁতরে ওপরে উঠতে পারি, কিন্তু আমার মাকে আর খুঁজে পাচ্ছি না।”
আলিফের সঙ্গে তার নানি সাহেদা বেগমও ছিলেন।
সাহেদা বেগম জানান, তার মেয়ে জ্যোৎস্না বেগম (৩৫) ঢাকার বাইপাইল এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তাদের বাড়ি রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাছোঘাটা এলাকায়।
তিনি বলেন, “আমি মেয়েকে বাসে তুলে দিয়েছিলাম। পরে ফোনে কথা বলার সময় সে বলছিল—‘আম্মা, বাস পদ্মায় পড়ে যাচ্ছে।’ এরপর আর কোনো কথা শুনতে পাইনি। আমার মেয়েটা ফোনে কথা বলতে বলতে নদীতে তলিয়ে গেল।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর অন্তত ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। তবে বাসটিতে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এমআর //
