একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান মারা গেছেন
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৪:৩৭ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার
দেশের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী মাহবুবা রহমান পরলোকগমন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় তিনি দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
মাহবুবা রহমানের সংগীত যাত্রা শুরু হয় ১৯৪৭ সালে তৎকালীন ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’-র ঢাকা কেন্দ্র থেকে। পঞ্চাশ থেকে সত্তরের দশকে রেডিও ও চলচ্চিত্রে তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও কালজয়ী। বিশেষ করে পল্লিগীতি ও আধুনিক গানে তার দক্ষতা অনন্য। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করে।
চলচ্চিত্র সংগীতের ইতিহাসেও মাহবুবা রহমানের নাম চিরস্মরণীয়। প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এ তার গাওয়া সমর দাসের সুরে ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ঘুরে। এরপর জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ এবং ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’ গানগুলো তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, ‘আসিয়া’, ‘এ দেশ তোমার আমার’, ‘সোনার কাজল’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ও ‘সাত ভাই চম্পা’র মতো অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন।
ব্যক্তিজীবনে ১৯৫০ সালে তিনি আবুল হাসনাতের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার ও সংগীতজ্ঞ খান আতাউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে, যাদের মধ্যে রুমানা ইসলাম দেশের একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এমআর//
