ঢাকা, শনিবার   ২৮ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৩ ১৪৩২

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

পাশাপাশি কবরে দাফন হলো স্ত্রী-সন্তানসহ মুফতি মমিনের

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:৪২ পিএম, ২৭ মার্চ ২০২৬ শুক্রবার

রাজধানীর একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন মুফতি আব্দুল মমিন। ঈদের ছুটি শেষে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে গেল শেষ যাত্রা। কর্মস্থলে ফেরা হলো না তার; বাড়িতে ফিরলেন লাশ হয়ে—একজন নয়, চারজন।

নিহতরা হলেন আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭) ও মেয়ে লাবিবা (১৮)। এছাড়া গাড়ির চালক জামাল হোসেন (৫২) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তবে দুর্ঘটনায় আহত হলেও বেঁচে যায় আব্দুল মমিনের ১২ বছর বয়সী ছেলে আবরার।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে অ্যাম্বুলেন্সযোগে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়ি তিতারকান্দিতে। সকাল থেকেই একে একে খোঁড়া হয় চারটি কবর। বাদ জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

আকস্মিক এমন মৃত্যুতে পুরো তিতারকান্দি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গ্রামবাসী এমন মর্মান্তিক ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না।

স্থানীয় চা-দোকানি নুর হোসেন বলেন, “একই পরিবারের চারজনকে একসঙ্গে কবর দেওয়া হবে—এমন ঘটনা জীবনে প্রথম দেখলাম। এ শোক সইবার নয়।”

নিহতদের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার একটি হোটেলে যাত্রাবিরতির পর হাইওয়েতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে চালকসহ পাঁচজন নিহত হন।

গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে যাওয়া আবরারকে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে লক্ষ্মীপুরে নানার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এখনো ট্র্যাজেডির ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিশুটি।

আবরার জানায়, সে গাড়ির বাম পাশে বসা ছিল। হঠাৎ একটি ধাক্কায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফেরার পর সে একটি সিএনজিতে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়।

নিহত মুফতি আব্দুল মমিন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদের ভগ্নিপতি। ফয়সাল আহমেদ জানান, আব্দুল মমিন ঢাকার জামেয়া মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন। নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় তার নিজ বাড়ি হলেও বিয়ের পর থেকে তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করতেন।

তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতে এসে সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। বড় ছেলে হুজাইফা বাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যায়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর গ্রামের বশা হাজী পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে চারজনকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরে নিহতদের বাড়িতে যান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারটিকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে বিআরটিএর মাধ্যমে আরও সহায়তার আশ্বাস দেন।

এমআর//