ঢাকা, মঙ্গলবার   ৩১ মার্চ ২০২৬,   চৈত্র ১৬ ১৪৩২

রামেকে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি পরিদর্শন, দ্রুত ভ্যাক্সিন সরবরাহের তাগিদ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৮:৪০ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬ সোমবার | আপডেট: ০৮:৪৭ পিএম, ৩০ মার্চ ২০২৬ সোমবার

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মোঃ রফিকূল ইসলাম।

পরিদর্শনকালে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, দেশে প্রথম মিজেলস (হাম) রোগী গত ৪ জানুয়ারি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে শনাক্ত হয়।

তিনি বলেন, “২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বিনামূল্যে ভ্যাক্সিন পেয়েছে। তবে এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভ্যাক্সিন সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলেই বর্তমান প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য সহকারী ও ভ্যাক্সিন পোর্টারদের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনের কারণে টিকাদান কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে না পড়ে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডা. রফিকূল ইসলাম বলেন, “সরকারের উচিত খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ভ্যাক্সিন সংগ্রহ করে তা জনগণের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করা।” তিনি জানান, সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা প্রদান করা হয়। তবে সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও ১২ জন শিশুকে আইসিইউতে রেখে এবং ওয়ার্ডে ভর্তি অন্যান্য হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

এসময় তিনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ উল ইসলাম, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক জহুরুল হকসহ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

এমআর//