ঢাকা, বুধবার   ০১ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ১৮ ১৪৩২

ইরান পুনর্গঠনে অন্তত ১৫-২০ বছর লাগবে: ট্রাম্প

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৩১ এএম, ১ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার

চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র হামলায় ইরান এতটাই বিধ্বস্ত যে, দেশটি পুনর্গঠনে অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরানের সম্ভাব্য সবকিছু ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলাম। আমরা তাদের অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছি। আমরা যা করেছি, তা কাটিয়ে উঠে দেশটির পুনর্গঠনে ১৫ থেকে ২০ বছর সময় লাগবে।’

ইরানের সামরিক শক্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তাদের এখন কোনো নৌবাহিনী নেই, সেনাবাহিনী নেই, বিমানবাহিনীও নেই। তাদের কোনো টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা বা কোনো নেতা— কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ফুটে ওঠে তাঁর পরবর্তী বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘তারা যদি আলোচনার টেবিলে আসে, তবে ভালো। কিন্তু তারা আলোচনায় এলো কিনা, তাতে এখন আর আমাদের কিছু যায় আসে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন, ইরান যুদ্ধের ‘শেষ রেখা’ বা সমাপ্তি দেখতে পাচ্ছে ওয়াশিংটন। এই যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে।

ফক্স নিউজ চ্যানেলের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের শেষ রেখা দেখতে পাচ্ছি। এটি আজই নয়, কালও নয়; তবে সেই সময় ঘনিয়ে আসছে।’

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কোনো কৌশল নেই, এমন দাবিও এদিন প্রত্যাখ্যান করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও। তিনি বলেন, ‘আমি সংবাদমাধ্যমে এসব খবর শুনছি এবং এটা খুবই হতাশাজনক যে, আমাদের লক্ষ্যগুলো নাকি পরিষ্কার নয়।’

রুবিও আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট...এবং আমরা চারটি লক্ষ্যই পূরণ করতে যাচ্ছি। আমরা তাদের (ইরান) বিমানবাহিনী ধ্বংস করব; যা আমরা ইতিমধ্যে করেছি। আমরা তাদের নৌবাহিনী ধ্বংস করব; এর বড় অংশই আমরা শেষ করেছি। আমরা তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো ধ্বংস করব; আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা বা লঞ্চারগুলো এমনভাবে গুঁড়িয়ে দেব, যাতে তারা একত্রে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে না পারে।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ‘এ চারটি লক্ষ্য অর্জনের পথে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এসব লক্ষ্য অবশ্যই পূরণ হবে এবং তা খুব দ্রুতই অর্জিত হবে।’

সূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান

এএইচ