ঢাকা, শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২৬,   চৈত্র ২১ ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের দাবি ইরানের

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:৪১ এএম, ৪ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার | আপডেট: ০৯:৫০ এএম, ৪ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার

নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শুক্রবার দেওয়া এক ভাষণে দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি এ কথা বলেন।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ইরান। প্রথমটি এফ-১৫ই মডেলের মার্কিন যুদ্ধবিমান। এটি ইরানের মধ্যাঞ্চলে ভূপাতিত হয়। দ্বিতীয়টি এ-১০ মডেলের একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান। এটি হরমুজ প্রণালির কাছে বিধ্বস্ত হয়। ইব্রাহিম জুলফাগারি সম্ভবত এই যুদ্ধবিমানের কথা বলেছেন।

ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, ইরানের নিজস্ব ‘নতুন উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ ব্যবহার করে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানের এ কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাঁর এ দাবি মিথ্যা। মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি তার প্রমাণ।

ইব্রাহিম জুলফাগারি বলেন, ‘কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি উন্নত শত্রু যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। সেটি কেশম ও হেনগাম দ্বীপের মাঝামাঝি জলসীমায় বিধ্বস্ত হয়েছে।’

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু বা সেনাকে খুঁজে বের করা এখন সময়ের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে বলছেন, মার্কিন উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি ইরানও তাঁকে খুঁজে বের করার দৌড়ে নেমেছে। তাই তাঁকে খুঁজে বের করা উত্তেজনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

মার্কিন কূটনীতিক ও সামরিক কৌশলবিদ জেমস জেফরি বলেন, ‘আমার জানা মতে, এটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক সামরিক অভিযান।’ 

জেফরি এর আগে সিরিয়া ও ইরাক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাধারণত এ ধরনের অভিযানে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। সহায়তার জন্য থাকে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং পাহারায় থাকে অন্যান্য যুদ্ধবিমান।

গতকাল শুক্রবার ইরান থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে খুজেস্তান প্রদেশের আকাশে এ ধরনের একটি অভিযান চলতে দেখা গেছে।

জেফরি বিবিসিকে আরও বলেন, ‘এরা মার্কিন বিমানবাহিনীর বিশেষ অপারেশন দলের সদস্য। তারা ডেল্টা ফোর্স বা নেভি সিলের মতো উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা দক্ষ। যতক্ষণ সামান্যতম সম্ভাবনা থাকে, ততক্ষণ তারা কোনো পাইলটকে না পাওয়া পর্যন্ত হাল ছাড়ে না।’

শত্রু সীমানায় কোনো বিমান বিধ্বস্ত হলে, সেই বিমানের পাইলট ও ক্রুরাও এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক জেনিফার কাভানা বিবিসিকে বলেন, ‘তাঁদের প্রথম লক্ষ্য থাকে বেঁচে থাকা এবং ধরা পড়া এড়িয়ে চলা।’

কাভানা আরও বলেন, ‘যদি তাঁরা শারীরিকভাবে সক্ষম থাকেন, তবে তাঁদের কাজ হলো দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল থেকে দূরে সরে যাওয়া। এরপর নিজেদের এমনভাবে লুকিয়ে রাখা, যেন নিরাপদ থাকেন।’

কাভানা বলেন, ক্রুদের জীবন বাঁচানোর নানা কৌশল শেখানো হয়। ফলে তাঁরা খাবার বা পানি ছাড়াই দীর্ঘ সময় থাকতে পারেন অথবা স্থানীয় পরিবেশ থেকেই বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করে নিতে পারেন।

সিবিএসের প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, বিধ্বস্ত এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের দুই আরোহীর (পাইলটের) একজনকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুটি মার্কিন বিমান হামলার মুখে পড়েছে। এ সময় এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমানটি আক্রান্ত হলে পাইলট সাগরে ঝাঁপ দেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে থাকা দুটি হেলিকপ্টারের একটিতে ছোট অস্ত্র থেকে গুলি চালানো হয়েছে। এতে হেলিকপ্টারটিতে থাকা কয়েকজন ক্রু আহত হন। তবে সেটি নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এফ-১৫ই বিমানের দ্বিতীয় আরোহীর (পাইলটের) খোঁজে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।

এএইচ