নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্স
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ১২:২৬ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার
ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু'কে খুঁজতে দেশটিতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু'কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর ইরানে প্রবেশের এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।
তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।
অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু'কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।
নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে ‘জীবিত’ ধরিয়ে দিতে ইরানে পুরস্কার ঘোষণা
এদিকে, নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে ‘জীবিত’ ধরিয়ে দিলে ৬৬,১০০ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে একটি ইরানি টেলিভিশন চ্যানেল। ইরানে গতকাল শুক্রবার ভূপাতিত করা মার্কিন যুদ্ধবিমানের এক নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে সাধারণ নাগরিকদের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় ওই চ্যানেলটি।
চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপক এক ঘোষণায় বলেন, ‘সামরিক বাহিনী নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করেছে। কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের নাগরিকেরা, আপনারা যদি শত্রুপক্ষের পাইলট বা ক্রুদের জীবিত ধরে পুলিশ বা সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেন, আপনাদের মূল্যবান পুরস্কার দেওয়া হবে।’
কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশটি মূলত একটি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, যা প্রায় ১৫ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত। ইরানি কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী চাহারমহল ও বখতিয়ারি প্রদেশেও সাধারণ মানুষকে তল্লাশি চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
এছাড়া টেলিভিশনের স্ক্রিনে এক বার্তায় সন্দেহভাজন কাউকে দেখামাত্র ‘গুলি করার’ আহ্বান জানানো হয়।
পুরস্কার ঘোষণার পর স্থানীয় অনেক নাগরিক নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছেন। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, কেউ যেন ওই পাইলটের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার না করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক বার্তায় জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের অনেক মানুষ পাইলটকে ধরার জন্য দুর্ঘটনাস্থলের দিকে গেছেন। তবে তাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন ওই পাইলট কোনোভাবেই লাঞ্ছিত না হন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমদ প্রদেশের গভর্নর ওই ‘অপরাধী মার্কিন পাইলটকে’ ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ বিলিয়ন তুমান বা প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড (৬৬ হাজার ১০০ ডলার বা প্রায় ৮১ লাখ টাকা) পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও ইরান আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল ‘এফ-১৫ই’ মডেলের। এ ধরনের যুদ্ধবিমানে সাধারণত একজন পাইলট এবং পেছনে একজন ‘ওয়েপন-সিস্টেম অফিসার’ থাকেন।
সংবাদমাধ্যম এক্সিওস ও সিবিএস নিউজ জানায়, বিমানের দুই পাইলটের একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। তবে দ্বিতীয়জনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান নিখোঁজ সেনার খোঁজে ইরানের ওই পাহাড়ি এলাকার অনেক উঁচু দিয়ে চক্কর দিচ্ছে।
এএইচ
