ফতুল্লায় যুবক শুভকে অপহরণের পর হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৭:৩৮ পিএম, ৫ এপ্রিল ২০২৬ রবিবার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া ২১ বছরের যুবক শুভর মরদেহের সন্ধান মিলেছে রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিখোঁজের সাত দিন পর অবশেষে মিলল শুভর নিথর দেহ।
আজ রোববার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা শুভর মরদেহ শনাক্ত করেন। মাত্র ২১ বছর বয়সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হলো এই যুবককে।
গত ৩১ মার্চ রূপগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগে গত ২৯ মার্চ জরুরি কাজের কথা বলে ডেকে নেওয়ার পর তাকে পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় একটি মামলা করেছেন নিহতের মা।
মামলার অভিযোগ বলছে, গত ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় জরুরি কাজের কথা বলে শুভকে ফতুল্লার চানমারী বস্তি এলাকায় ডেকে নেয় শাকিল ও লাল শুভ নামের দুই যুবক। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় চাষাড়া রেললাইন সংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজে। সেখানেই চালানো হয় পাশবিক নির্যাতন।
এই ঘটনায় শুভর মা মাকসুদা বেগম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে স্থানীয় সাংবাদিক আলী মিয়াসহ আরও ৯ জনের।
আসামিদের সবার বাড়ি ফতুল্লার ইসদাইর বস্তি এলাকায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান, জানান, ৩১ মার্চ রূপগঞ্জে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহটি শুভর বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে। যে মোটরসাইকেলে করে তাকে নেওয়া হয়েছিল এবং যারা ডেকে নিয়েছিল, তাদের ধরতে পারলেই হত্যার মূল রহস্য পরিষ্কার হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সাব্বির, রাজ্জাক ও মহসিন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মামলার মূল আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ এবং মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। শোকাতুর পরিবারের দাবি, জড়িত প্রত্যেকের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।
এএইচ
