ঢাকা, শনিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৪ ১৪৩৩

প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারল বাংলাদেশ

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১০:২০ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ শুক্রবার

মিরপুরে দ্বিতীয় সারির অনভিজ্ঞ দল নিয়েও সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ২৬ রানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ২৪৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশ ৪৮.২ ওভারেই ২২১ রানে অলআউট হয়েছে।  

২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই দলকে চাপে ফেলেন তানজিদ হাসান তামিম আর নাজমুল হোসেন শান্ত। ওপেনিং জুটিতে ৩ ওভার পার হয়েছিল। অবশ্য সাইফ হাসান একবার জীবন পান। নাথান স্মিথের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ ড্রপ হয়, সাইফ তখন ১ রানে।

তারপরও ওপেনিং জুটিটা বড় হয়নি। নাথান স্মিথের করা চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বোল্ড হন তামিম (২)। পরের বলে শান্ত (০) কিছু বুঝে ওঠার আগেই হারান স্টাম্প। ২১ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে সাইফ হাসান আর লিটন দাসের ৯৩ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। সাইফ বড় জুটি গড়ে শেষ পর্যন্ত ধৈর্য হারিয়েছেন। উইল ও'ররকির বলে পুল খেলতে গিয়ে মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন। ৭৬ বলে ৮ চার আর ১ ছক্কায় ৫৭ রান আসে সাইফের ব্যাট থেকে। দশম ওয়ানডেতে এটি সাইফের দ্বিতীয় ফিফটি।

লিটন দাস অবশ্য ফিফটি পাননি। ৬৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ৪৬ রান করে ডিন ফক্সক্রফটের বলে বোল্ড হন তিনি। ১৩২ রানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে তাওহিদ হৃদয় আর আফিফ হোসেন ধ্রুব গড়েন ৫২ রানের জুটি। ধীর ব্যাটিং করা ধ্রুব হাত খুলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। ৫৯ বলে করেন ২৭ রান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও মাত্র ৬ রান করে আউট হয়ে গেলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

ওভারপ্রতি রানের দরকার প্রায় দশে গিয়ে ঠেকে। রিশাদ হোসেনও (৪) হার্ডহিটিং সামর্থ্য দেখাতে পারেননি। তাওহিদ হৃদয় একটা প্রান্ত ধরে লড়াই চালিয়ে গেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেননি। ৬১ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় ৫৫ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন তিনি।

নিউজিল্যান্ডের ব্লেয়ার টিকনার ৪০ রানে শিকার করেন ৪টি উইকেট।

এর আগে মিরপুরে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। স্বাগতিক বোলারদের সামনে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস গিয়ে ঠেকেছে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শেরেবাংলায় টস জিতে ব্যাটিং করতে নামে নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ ৬৮ রান এসেছে হেনরি নিকোলসের ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেছেন ডিন ফক্সক্রফট। ৩০ রান উইল ইয়াংয়ের।

২১ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। আউট করেন নিক কেলিকে। ৩০ রান করা উইল ইয়াংকে ফেরান রিশাদ হোসেন দলীয় ৯৪ রানে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বোল্ড করে ফেরান কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামকে। ১২৭ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর রিশাদের আঘাতে দ্রুতই আরেক উইকেট হারায় সফরকারীরা। তাদের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করা হেনরি নিকোলস বিদায় নেন দলীয় ১৩১ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ২৭ রান দিয়ে দুই উইকেট পাওয়া শরিফুল ১৪ রান করা আব্বাসকে ফেরালে ১৬৫ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হয়। ১৯২ রানে জশ ক্লার্কসনকে (৮) তাসকিন ও ২২৬ রানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫৯ রান করা ডিন ফক্সক্রফটকে ফেরান নাহিদ রানা। পতন হয় সপ্তম উইকেটের।

শেষ ওভারে ৭ রান করা ব্লেয়ার টিকনারকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট শিকার করেন তাসকিন। ২৪০ রানে ৮ উইকেট হারায় ব্ল্যাকক্যাপসরা। ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন নাথান স্মিথ। সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৪৭।

বাংলাদেশের হয়ে দুই উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল ইসলাম। সমান দুই উইকেট গেছে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদের ঝুলিতেও। একটি উইকেট পেয়েছেন নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

এমআর//