ঢাকা, শনিবার   ১৮ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৫ ১৪৩৩

ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করলো ইরানের সামরিক বাহিনী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৫:০৪ পিএম, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ শনিবার

ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য খুলে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফের অবরোধ জারি করলো ইরান।

আজ শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফারস নিউজ এজেন্সি, ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি—সবকটিই আইআরজিসির এক বিবৃতি উদ্ধৃত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রণালিটি “আগের অবস্থায়” ফিরে যাবে এবং ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর হাতে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে “জলদস্যুতা”র অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তাদের “তথাকথিত অবরোধ” আসলে সমুদ্রপথে জবরদস্তি চালিয়ে দখলের শামিল।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ চালু রাখে, তাহলে তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে। লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথটি পুনরায় চালুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণা আসে।

শনিবার দেশটি এই সতর্কবার্তা দেয়। হরমুজ প্রণালি চালু হওয়ায় শুক্রবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ওয়াশিংটনে আশাবাদ তৈরি হয়। 

ইরান আরও সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ যদি তাদের বন্দর থেকে আসা জাহাজগুলোকে বাধা দেয়, তাহলে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হতে পারে। 

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ‘অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খোলা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত অনলাইনে নয়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী জানে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘যাকে তারা নৌ অবরোধ বলছে, তা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন। এর যথাযথ জবাব ইরান দেবে।’

লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর শান্তি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছিল। 

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।

এএইচ