বাংলা সংস্কৃতির জীবন্ত রূপায়ণ কাব্যকুহুকের “কবিতায় হালখাতা”
একুশে টেলিভিশন
প্রকাশিত : ০৩:৩৮ পিএম, ২০ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার
কাব্যকুহুক আয়োজিত “কবিতায় হালখাতা” অনুষ্ঠানটি প্রতি বছরের মতো এবারও প্রাণোচ্ছ্বাসে ভরপুর ছিল। নতুন বছরের সূচনাকে ঘিরে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এক অনন্য সাহিত্যিক আবহ তৈরি করে, যেখানে বাংলা সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রেজিস্ট্রেশন ও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, যেখানে নতুন-পুরনো সাহিত্যপ্রেমীদের এক মিলনমেলা গড়ে ওঠে। সবার অংশগ্রহণে পরিবেশটি হয়ে ওঠে উষ্ণ ও প্রাণবন্ত।
এরপর শুরু হয় মূল আয়োজন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পীরা। তাদের মনোমুগ্ধকর কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে এবং দর্শকদের আবেগে ভাসিয়ে নেয়।
অনুষ্ঠানে আবৃত্তি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডক্টর নিমাই মন্ডল, কবি ফুয়াদ সনমসহ আরও অনেক বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক, গুণী আবৃত্তিশিল্পী ও সঙ্গীতশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করে তোলে।
শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাদের গান ও কবিতায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। ছোটদের সরল উপস্থাপনা, নির্মল উচ্ছ্বাস এবং স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এক অন্যরকম প্রাণসঞ্চার করে, যা সকলের মন জয় করে নেয়।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল অতিথিদের জন্য বৈশাখী খাবারের আয়োজন। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি ও লালন সংগীতের সুরে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্যের এক অপূর্ব প্রতিচ্ছবি। সব মিলিয়ে, এটি যেন ছিল বাংলা সংস্কৃতির এক জীবন্ত রূপায়ণ।
‘কবিতায় হালখাতা’ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক সুন্দর সমন্বয়—যা উপস্থিত সকলের মনে রেখে যায় আনন্দময় ও স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।
এএইচ
