ঢাকা, বুধবার   ২২ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৮ ১৪৩৩

জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৯:০৫ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার | আপডেট: ০৯:০৭ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম জামিন পেয়েছেন। এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তেজগাঁওয়ের রেলওয়ে কলোনি স্টেশন রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মানবিক দিক বিবেচনায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় পুলিশ রিপোর্ট না দেওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একই মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। পরবর্তীতে বিকেলের দিকে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, কারণ তিনি তার দেড় মাস বয়সী কন্যাসন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানকে সঙ্গে নিয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন। পরে রাতে অন্য বিচারকের আদালতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হলে আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল চানখাঁরপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় আসামি শিল্পীর নির্দেশে ১২০-১৩০ জনের একটি দল দেশীয় ধারালো অস্ত্র, পিস্তল ও বোমা নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাসায় হামলা চালায়।

ওই হামলায় বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ভাঙচুর করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এছাড়া ৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।ভুক্তভোগীর বাসার সামনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয় এবং শিক্ষার্থীর বাবা মো. সোহেল রানাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

কারাগারে যাওয়ার আগে আদালত প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। দেড় মাস বয়সী শিশুসন্তানকে বুকে জড়িয়ে শিল্পী বেগমকে কাঁদতে দেখা যায়। আদালত বারান্দার বেঞ্চে বসেই তিনি সন্তানকে দুধ খাওয়ান। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই শিশুসন্তানসহ তাকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। অবশেষে রাতে জামিন পাওয়ায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

এমআর//