ঢাকা, বুধবার   ২২ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৮ ১৪৩৩

বিএনপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের দ্বিপাক্ষিক সভা

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ১১:০৮ পিএম, ২১ এপ্রিল ২০২৬ মঙ্গলবার

চীন সফররত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি গণচীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জনাব হান জেং-এর সাথে গ্রেট হল অন দ্য পিপল এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী জনাব লিউ হাইশিং-এর সঙ্গে আইডিসিপিসি ভবনে পৃথক দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই সভাগুলোতে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে মৈত্রী ও দৃঢ় ভিত্তির সূচনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যা বিকশিত হয়েছিল, তার স্মৃতিচারণ করা হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

সভায় বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের 'কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ'-কে দুই দেশের গভীর আস্থা ও বহুমাত্রিক সহযোগিতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া, চীনের সিপিসি এবং বিএনপি'র মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক সফর এবং নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। 

দেশের পররাষ্ট্রনীতি ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবং 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতিকে সামনে রেখে বর্তমান সরকার বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ও বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করেছে।' এ প্রসঙ্গে তিনি 'এক-চীন' নীতির প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া, উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং দুই দেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। 

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহযোগিতা চেয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'মানবিক এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চীনের অব্যাহত সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।' রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই এবং স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের গঠনমূলক ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। 

মন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জীবন-জীবিকার সাথে জড়িত তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সদিচ্ছা ও অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি চীনা ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা আরও জোরদার হবে।' 

প্রতিরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। 

বাংলাদেশে প্রস্তাবিত 'বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল' প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'রোবোটিক সার্জারি ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা, টিকাদান কর্মসূচি এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে চীনের অব্যাহত সমর্থন প্রত্যাশিত।' পাশাপাশি চীনের সহযোগিতায় বাংলাদেশে কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধির আশাও ব্যক্ত করেন তিনি। 

গণচীনের উপরাষ্ট্রপতি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী উভয়ই বাংলাদেশকে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ও অংশীদার হিসেবে অভিহিত করেন। তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার নিশ্চয়তা দেন এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে যৌথ অগ্রগতির ওপর জোর দেন। 

উভয় সভায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

এমআর//