ঢাকা, বুধবার   ২২ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ৯ ১৪৩৩

এক পরিবারের ৪ জনকে হত্যা: পরিকল্পিত বলছে পুলিশ, আটক ৪

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশিত : ১০:১০ এএম, ২২ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার | আপডেট: ১০:১৭ এএম, ২২ এপ্রিল ২০২৬ বুধবার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে দুই শিশুসহ একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে বাহাদুরপুর গ্রামের একটি বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের নমির উদীন মন্ডলের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০), ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকলে তাদের মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। 

নিভৃত পল্লী এলাকায় লোমহর্ষক এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে এলাকার মানুষ হতভাক হয়ে পড়েছে। স্বজনদের আহাজারি আকাশ ভারী হয়ে উঠেছে। গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

এদিকে আলোচিত এই ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে সিআইডি। এছাড়া নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার, র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার লোকজন ঘটানস্থল পরিদর্শন করেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের নমির উদ্দিনের ৫ মেয়ে ও এক ছেলে।  ছেলে হাবিবুর রহমান স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে পিতার সাথেই একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

সম্প্রতি নমির উদ্দিন জমিজমা ছেলেমেয়েদের মধ্যে বন্টন করে দেয়। তবে ছেলের ভাগে কিছু জমি বেশি দেওয়া হয় বলে এ নিয়ে বোনদের মধ্যে মনোমালিন্য চলে আসছিল। বরাবরের মতো সোমবার রাতে নমির উদ্দিন ও তার ছেলে হাবিবুর রহমান, হাবিবুরের স্ত্রী, তাদের শিশু সন্তান পৃথক তিনটি ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরের দিন নমির উদ্দিন ছাড়া সকলের গলাকাটা মরদেহ বাড়ির বিভিন্ন স্থানে পড়ে ছিল। 

গ্রামবাসীদের ধারণা জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে।

নিহত হাবিবুরের পিতা নমির উদ্দিন মন্ডল বলেন, ফজরের নামাজ পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দেখি, ছেলে, ছেলের বউ ও দুই সন্তান রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সাথে সাথে আমি বের হয়ে গ্রামবাসীকে খবর দেই। তিনি দাবি করেন ডাকাতির উদ্দেশ্যে পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এর বিচার চান।

নিহত পপি আক্তারের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন ও মা সাবিনা বেগম বলেন, আমার মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যারা হত্যা করেছে তাদের ফাঁসি চাই।

এদিকে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নওগাঁ ও রাজশাহী থেকে পুলিশের সিআইডি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করছে। এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

নিয়ামতপর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার মাহাবুবুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এই বিষয়ে মৃত হাবিবুর রহমানের ভাগিনা সবুজ হোসেন ও পিতা নমীর উদ্দিন, বড় দুই বোন ডালিমা ও সিরিনা বেগমকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। 

নওগাঁ পুলিশ সুপার মো তারিকুল ইসলাম বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ডাকাতির কোন ঘটনা ঘটেনি। কারণ বাড়ি থেকে কোন জিনিস খোয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এএইচ