ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ২৩ এপ্রিল ২০২৬,   বৈশাখ ১০ ১৪৩৩

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

একুশে টেলিভিশন

প্রকাশিত : ০৭:৫৯ পিএম, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ বৃহস্পতিবার

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে দুই ম্যাচ জিতে ইতিহাস গড়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ১১ বছর পর প্রথম ম্যাচ হেরেও সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখালো টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ট ফ্লাইট লেফটেনেন্যান্ট শহীদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তোলে বাংলাদেশ। যা তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে যায় ৪৪.৫ ওভারে ২১০ রানে। স্বাগতিকরা সিরিজ জিতে নেয় ২-১ ব্যবধানে।

এদিন টসে হেরে ব্যাট করতে নামা দলকে চ্যালেঞ্জি পুঁজি এনে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। দুই বছর পর সেঞ্চুরি করেন শান্ত, আড়াই বছর পর ফিফটির দেখা পান লিটন।

বাকি কাজটা বল হাতে সারেন মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা। দলে ফিরেই মোস্তাফিজ ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন। ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার নাহিদ রানার। ২ উইকেট নেন মেহেদী মিরাজও।

অবশ্য ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তিন ওভার শেষ না হতেই ফেরেন দুই ওপেনার। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফেরেন সাইফ হাসান। ২ বল খেলে ০ রানে আউট হন তিনি।

আর তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই বোল্ড হন তানজিদ তামিম (৫ বলে ১)। ওপরে উঠে খেলতে গিয়ে ব্যাটে ঠিকমতো পাননি, বল ব্যাটে লেগে স্টাম্প ভেঙে দেয়। দুটো উইকেটই নেন ও’রুর্কে।

৩ ওভারে ৯ রানে ২ উইকেট হারানোর পর হাল ধরার চেষ্টা করেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার। তবে সৌম্যকেও জ্বলে উঠার আগেই থামিয়ে দেন ও’রুর্কে।

তামিমের মতোই ক্রস করে নিচে খেলতে গিয়ে বল স্টাম্পে টেনে নেন সৌম্য। বোল্ড হয়ে ফেরেন ২৬ বলে ১৮ রান নিয়ে। ৮.২ ওভারে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর শান্ত ও লিটন দাস মিলে ধরেন হাল। শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে গুছিয়ে আনেন ইনিংস। গড়ে তোলেন দেড় শ’ রানের জুটি। ১৭৮ বলে যোগ করেন ১৬০ রান।

৩৮.১ ওভারে লিটনের বিদায়ে ভাঙে এই জুটি। তবে ফেরার আগে আড়াই বছরের আক্ষেপ ঘোচান তিনি, ১৮ ইনিংস পর তুলে নেন ফিফটি। খেলেন ৩ চার ১ ছক্কায় ৯১ বলে ৭৬ রানের ইনিংস।

অন্যদিকে শান্ত টানা দ্বিতীয় ফিফটি ছুঁয়ে তুলে নেন শতকও। ২০ ইনিংস পর ওয়ানডেতে তিন অঙ্কে পৌঁছান তিনি। ২০২৪ সালে শেষবার এই চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন শান্ত। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে এটি শান্তর চতুর্থ সেঞ্চুরি। ১১৪ বলে শতক ছোঁয়ার পর অবশ্য ইনিংসটা আর টানতে পারেননি শান্ত। আউট হয়েছেন ১১৯ বলে ৯ চার ২ ছক্কায় ১০৫ রান নিয়ে।

৪৩ ওভারে দলকে ২২১ রানে রেখে ফেরেন শান্ত। তবে এরপর আর তেমন সুবিধা করতে পারেননি কেউ। হাতে ৫ উইকেট থাকতেও শেষ ৪২ বলে এসেছে মাত্র ৪৫ রান। 

তাওহিদ হৃদয় ২৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৮ বলে ২২ রান নিয়ে আউট হন অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ। বল হাতে কিউইদের হয়ে ও’রুর্কে ৩ উইকেট নেন।

বল হাতে চতুর্থ ওভারেই দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন মোস্তাফিজুর রহমান। হেনরি নিকোলসকে (৪) ফেরান এই বাঁহাতি পেসার। এরপর অবশ্য উইকেটের জন্য বাড়তে থাকে অপেক্ষা।

দেখেশুনে খেলতে থাকে নিউজিল্যান্ড। নিক কেলি ও উইল ইয়ং মিলে ধরেন হাল। তাতে আর কোনো উইকেট না হারিয়েই পাওয়ার প্লেতে আসে ৩৩ রান। তবে জুটি বড় হতে দেননি নাহিদ রানা। ১৩.৩ ওভারে এসে থামান ইয়ংকে। ২৫ বলে ১৯ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। আর চারে নামা টম লাথামকে থিতু হতে দেননি মেহেদী মিরাজ। ১৩ বলে ৫ রান নিয়ে আউট হন তিনি।

১৭ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৬১/৩। এরপর মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে ৪৭ রান যোগ করেন কেলি। তবে তার বিদায়েই ভাঙে জুটি, ৮০ বলে ৫৯ রান করে মোস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি।

দলের রান এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন আব্বাস। তবে ইনিংস বড় হয়নি তারও, শরীফুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ৩৬ বলে ২৫ রানে। তার বিদায়েই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কিউইরা।

পরের অধ্যায়টা মোস্তাফিজের। দলে ফিরেই যেন নিজের জাত চেনালেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার ৫ উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। ছেটে দেন কিউইদের ইনিংসের লেজ।

ফেরান নাথান স্মিথ, জয়দেন লিনক্স, উইলিয়াম ও’রুর্কেকে। মাঝে জশ ক্লার্কসনকে (৬) ফেরান নাহিদ রানা। ৪০ ওভারে ১৬০ রানে ৯ উইকেট হারায় কিউইরা।

সফরকারীদের হয়ে একাই লড়াই চালিয়ে যান ডিন ফক্সক্রফ্ট। তবে তা কেবল হারের ব্যবধান কমায়। ৪৪.৫ ওভারে এসে শেষ উইকেট হিসেবে ৭২ বলে ৭৫ রান করে আউট হন ফক্সক্রফ্ট।

এমআর//